আগরতলা, ১০ মে : ত্রিপুরায় বসবাসকারী অসমিয়া সমাজের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসব রঙালী বিহুর রৌপ্য জয়ন্তী বর্ষ উদযাপনের শুভ সূচনা হল রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নজরুল কলাক্ষেত্রে। বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু রঙালী বিহুর ঐতিহ্য, তাৎপর্য এবং সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রঙালী বিহু শুধুমাত্র অসমিয়া নববর্ষকে বরণ করে নেওয়ার উৎসব নয়, এটি প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং কৃষিভিত্তিক জীবনযাত্রার সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্কের প্রতীক। এই উৎসব সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।
তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরার মতো বহুসাংস্কৃতিক রাজ্যে এই ধরনের উৎসব পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সাংস্কৃতিক সহাবস্থানকে শক্তিশালী করে। গত ২৫ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ত্রিপুরায় রঙালী বিহুর আয়োজন করে আসার জন্য অসম অ্যাসোসিয়েশন অব ত্রিপুরার কর্মকর্তাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও ভূয়সী প্রশংসা করেন রাজ্যপাল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ঝর্ণা দেববর্মা। তিনি বলেন, রঙালী বিহু আনন্দ, আশা ও নতুন সম্ভাবনার বার্তা বহন করে। এই উৎসব নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে একসূত্রে আবদ্ধ করে এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন নিপকোর প্রধান মুকুট শর্মা। তিনি বলেন, এই ধরনের উৎসব জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডঃ প্রিয়াংশু রাণা বড়ঠাকুর। তিনি রঙালী বিহুর ২৫ বছরের পথচলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ত্রিপুরায় বসবাসকারী অসমিয়া সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন অসম অ্যাসোসিয়েশন অব ত্রিপুরার সভাপতি পুলিন চাংমাই। তিনি সকল অতিথি, শিল্পী, সংগঠক এবং উপস্থিত দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী পর্বের পর পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অসমের ঐতিহ্যবাহী বিহু নৃত্য, লোকসঙ্গীত ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে নজরুল কলাক্ষেত্র। শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা এবং দর্শকদের উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণে রঙালী বিহুর রৌপ্য জয়ন্তী উদযাপন পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

