আগরতলা, ১১ মে : লোক ভবনে সোমবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক গম্ভীর ও মর্যাদাপূর্ণ ইনভেস্টিচার সেরিমোনিতে ৩৫ আসাম রাইফেলস এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৬৩৭ এসএটিএ. ব্যাটারিকে তাদের অসামান্য কর্মদক্ষতা, সাহসিকতা এবং ত্রিপুরার নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘ইউনিট অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লু। তিনি ৩৫ আসাম রাইফেলসের কমান্ড্যান্ট কর্নেল সাহিল শর্মা এবং ৬৩৭ এসএটিএ. ব্যাটারির কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিস কুকরেতির হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন।
রাজ্যপাল বলেন, ‘পাহাড়ের বন্ধু’ হিসেবে পরিচিত ৩৫ আসাম রাইফেলস দীর্ঘদিন ধরে ত্রিপুরার দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে অত্যন্ত নিষ্ঠা, সাহস এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছে। সন্ত্রাসবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে এই বাহিনীর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, এই ইউনিটের সদস্যরা প্রতিকূল পরিবেশেও সংযম, সতর্কতা এবং দক্ষতার পরিচয় দিয়ে রাজ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
রাজ্যপাল ৬৩৭ এসএটিএ ব্যাটারির ভূমিকাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই ইউনিট সাধারণ মানুষের নজরে খুব বেশি না এলেও নীরবে এবং নিরলসভাবে প্রতিদিন দেশের নিরাপত্তা ও ত্রিপুরার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে চলেছে। তাদের নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা এবং কর্তব্যপরায়ণতা ভারতীয় সেনাবাহিনীর ঐতিহ্যকে আরও সমুন্নত করেছে।
তিনি উভয় ইউনিটের সকল অফিসার, জেসিও এবং জওয়ানদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় তাঁদের অবদান অত্যন্ত গৌরবের। ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে তাঁরা কাজ করে যাবেন বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ২১ সেক্টর আসাম রাইফেলসের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার নিশান্ত চান্দেল এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৭৩ মাউন্টেন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার ধীরাজ কুমার সিং, ভিএসএম। তাঁরা উভয় ইউনিটের সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, কঠোর প্রশিক্ষণ, সুসংহত নেতৃত্ব এবং দায়িত্বের প্রতি অটুট অঙ্গীকারই এই সম্মান অর্জনের মূল ভিত্তি।
অনুষ্ঠারের শুরুতে রাজ্যপালের সচিব ইউকে চাকমা স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি উপস্থিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই ধরনের সম্মাননা বাহিনীগুলিকে আরও উৎসাহিত করবে এবং তাঁদের মনোবল বৃদ্ধি করবে।
অনুষ্ঠানে আসাম রাইফেলস ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদস্থ আধিকারিক, রাজভবনের কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল দেশপ্রেম, গর্ব এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এক অনন্য আয়োজন।

