iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

খয়েরপুরে জেলা ভিত্তিক ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’, ত্রিপুরেশ্বর মন্দিরে ভক্তদের ঢল

আগরতলা, ১১ মে  : কলস যাত্রায় গঙ্গাজল আনয়ন, বিশেষ পূজা-পাঠ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরে অনুষ্ঠিত বিশেষ পূজার সরাসরি সম্প্রচারকে কেন্দ্র করে সোমবার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা ভিত্তিক ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’ পালিত হল খয়েরপুর বিধানসভা এলাকার পূর্ব চাম্পামুড়াস্থিত শ্রীশ্রী ত্রিপুরেশ্বর মন্দির সেবাধামে। ধর্মীয় আবহে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক ভক্ত-অনুরাগীর সমাগম ঘটে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, খয়েরপুরের বিধায়ক রতন চক্রবর্তী, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীলসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

জানা গেছে, ১০২৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান মাহমুদ গজনী গুজরাটের ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দিরে আক্রমণ চালায়। পরবর্তীকালে স্বাধীনতার পর ১৯৫১ সালে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ পুনর্নির্মিত সোমনাথ মন্দিরের উদ্বোধন করেন। সেই পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে বর্ষব্যাপী ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’ উদযাপন করা হচ্ছে।

সোমবার গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশেষ পূজা অর্চনা করেন। সেই অনুষ্ঠান দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি ত্রিপুরাতেও সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার মূল কর্মসূচি হিসেবে পূর্ব চাম্পামুড়ার ত্রিপুরেশ্বর মন্দির সেবাধামে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এদিন সকালে ভক্তরা কলস যাত্রার মাধ্যমে গঙ্গাজল আনয়ন করেন। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও ধর্মীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই শোভাযাত্রায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বহু মানুষ অংশ নেন। পরে মন্দিরে বিশেষ পূজা, যজ্ঞ ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি উপস্থিত ভক্তরা বড় পর্দায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সোমনাথ মন্দিরে অনুষ্ঠিত পূজা অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, “পৌরাণিক ইতিহাসে দেখা যায়, বিদেশি আক্রমণকারীরা বহুবার ভারতের ধর্মস্থানগুলিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। সোমনাথ মন্দির সেই ইতিহাসের অন্যতম প্রতীক। একাধিকবার ধ্বংস হলেও এই মন্দির আবার পুনর্নির্মিত হয়েছে। এটি সনাতন ধর্মের অদম্য শক্তি ও আত্মমর্যাদার প্রতীক।”

তিনি আরও বলেন, “সনাতন ধর্ম পৃথিবীর প্রাচীনতম ও শ্রেষ্ঠ জীবনদর্শন। অতীতে যেমন এই ধর্মকে বিনষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে, আজও বিভিন্নভাবে সেই চক্রান্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সনাতন ধর্ম ও ভারতীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্য রক্ষার কাজ এগিয়ে চলেছে।”

বিধায়ক রতন চক্রবর্তীও অনুষ্ঠানের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, সোমনাথ মন্দিরের ইতিহাস শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনার ইতিহাস নয়, এটি ভারতীয় সভ্যতার আত্মবিশ্বাস ও পুনর্জাগরণের প্রতীক।

সারা দিনব্যাপী চলা এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পূর্ব চাম্পামুড়া ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রচুর ভক্ত সমবেত হন। তাঁরা পূজার্চনায় অংশ নেন এবং দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’-এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *