আগরতলা, ১১ মে : যুব সম্প্রদায়কে ধর্মীয় ভাবাবেগ ও আধ্যাত্মিক চেতনায় পরিচালিত করার ওপর জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। সোমবার রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিববাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সারা দেশের পাশাপাশি ত্রিপুরাতেও রাজ্যভিত্তিক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দিরে অনুষ্ঠিত ‘সোমনাথ অমৃত পর্ব’ বা ‘অমৃত মহোৎসব’-এ ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতবর্ষকে গোটা বিশ্ব একটি আধ্যাত্মিক দেশ হিসেবে চেনে। দেশের এই গৌরবময় ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, “যুব সমাজকে যদি আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তবে তারা সঠিক পথেই এগুবে।”
মুখ্যমন্ত্রী ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান, ১০২৬ সালে সুলতান মাহমুদ গজনী সোমনাথ মন্দিরে আক্রমণ চালায়। পরবর্তীকালে স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদের উদ্যোগে ১৯৫১ সালে মন্দিরটির পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন হয়। সেই ঐতিহাসিক পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সারা দেশে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’ শুধু একদিনের অনুষ্ঠান নয়; এটি বছরব্যাপী দেশজুড়ে উদযাপিত হবে এবং ২০২৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে চলবে। এই উদযাপনে যত বেশি সংখ্যক যুবক-যুবতী অংশ নেবে, ততই তা দেশের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের জন্য ইতিবাচক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শিববাড়ির মন্দিরে পূজা অর্চনা করেন। পরে শিববাড়ি প্রাঙ্গণে প্রদর্শিত ভগবান শিবের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব পিকে চক্রবর্তী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্ত ও ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতিতে গোটা অনুষ্ঠানটি এক আধ্যাত্মিক ও গম্ভীর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
সোমনাথ মন্দিরের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং জাতীয় গৌরবের বার্তা তুলে ধরতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি দেশাত্মবোধ ও সাংস্কৃতিক চেতনার এক অনন্য সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়।

