বিলোনিয়া, ১০ মে : দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার পিআর বাড়ি থানাধীন বড়পাথড়ী হাসপাতালের সামনে অবস্থিত বাজার এলাকায় শনিবার গভীর রাতে ঘটল দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা। চোরের দল পরপর সাতটি দোকানের তালা কেটে নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, আক্রান্ত দোকানগুলির মধ্যে রয়েছে একটি ওষুধের দোকান, টিফিন স্টলসহ আরও কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। রবিবার সকালে দোকান মালিকরা দোকানের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পিআর বাড়ি থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।
ওষুধের দোকানের মালিক স্বপন চৌধুরী জানান, চোরেরা দোকানে ঢুকে শুধু ক্যাশবাক্সে থাকা নগদ টাকা নিয়ে গেছে। অন্য কোনও মালপত্রে হাত দেয়নি। তাঁর কথায়, “সব দোকান মিলিয়ে আনুমানিক তিন হাজার টাকার মতো নগদ অর্থ চুরি হয়েছে। টাকার অঙ্ক খুব বেশি না হলেও যেভাবে একসঙ্গে সাতটি দোকানে চুরি হয়েছে, তাতে বাজারের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।”
ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক কারণ চুরির স্থানটি বড়পাথড়ী হাসপাতালের ঠিক সামনে, যেখানে দিন-রাত মানুষের যাতায়াত লেগেই থাকে। তাছাড়া অধিকাংশ দোকান মালিকের বাড়িও দোকানের খুব কাছেই। সেই এলাকায় এমন দুঃসাহসিক চুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এলাকার একাংশের যুবকদের মধ্যে নেশার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। তাঁদের ধারণা, নেশার টাকার জোগান দিতেই এই চুরির ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে নেশা বিক্রেতা ও নেশাগ্রস্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তোলেন তাঁরা।
স্থানীয়দের মতে, বড়পাথড়ী বাজার থেকে বিলোনিয়া থানা এবং পিআর বাড়ি থানা—দুটি থানাই প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে রাতে পুলিশি টহল কার্যত থাকে না বললেই চলে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

