iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

বিপদসীমার ওপরে হাওড়ার জল, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

আগরতলা, ২৩ আগস্ট : স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা জলের চাপে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে হাওড়া নদী। নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় আগরতলা ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে প্লাবন। জলবন্দি হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযানে নেমেছে প্রশাসন। জিরানিয়া মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে চারটি এবং সদর মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে বলদাখাল-সহ বিভিন্ন এলাকায় আরও তিনটি শেল্টার হাউস চালু করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে শনিবার সন্ধ্যা থেকে পশ্চিম ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় ভারী বৃষ্টিপাত। রাতভর বর্ষণের পাশাপাশি উজান এলাকায় প্রবল বৃষ্টির ফলে হাওড়া নদীতে হু হু করে জল বাড়তে থাকে। রবিবার ভোর থেকেই নদীর জলস্তর ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় হাওড়া নদী সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলিতে জল ঢুকে পড়ে। বহু পরিবার কার্যত জলবন্দি হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতির খবর পেয়েই দ্রুত উদ্ধারকাজে নামে প্রশাসন। জিরানিয়া মহকুমার মান্দাই, রানিরবাজার, পুরাতন আগরতলা, চন্দ্রপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় জলবন্দিদের উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়। একইভাবে সদর মহকুমার বলদাখাল, মরিয়মনগর, কালীনগর, বৃদ্ধি নগর-সহ সংলগ্ন এলাকাতেও প্লাবিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন।

জিরানিয়া মহকুমা শাসক অনিমেষ ধর জানান, মান্দাই, ওল্ড আগরতলা, চন্দ্রপুর ও রানিরবাজার এলাকায় চারটি শেল্টার হাউস চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি বলদাখাল এলাকায় সদর মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে তিনটি শেল্টার হাউস খোলা হয়েছে। উদ্ধার করে নিয়ে আসা মানুষদের জন্য শেল্টার হাউসগুলিতে পানীয় জল ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত হাওড়া নদীর জলস্তর বেড়ে ১০.৮৬ মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। জলস্তর যতক্ষণ পর্যন্ত বিপদসীমার উপরে থাকবে, ততক্ষণ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন মহকুমা শাসক।

উদ্ধার অভিযানে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে টিএসআর-এর দশম ও দ্বিতীয় ব্যাটেলিয়ন, এসডিআরএফ, সিভিল ডিফেন্স এবং স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস-এর স্বেচ্ছাসেবকরা। জলবন্দি মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বর্তমানে পাঁচটি নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিস্থিতির প্রয়োজনে দ্রুত কাজে নামানোর জন্য আরও একটি নৌকা স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।

এদিন ওল্ড আগরতলা, বলদাখাল, মরিয়মনগর ও বৃদ্ধি নগর-সহ বিভিন্ন জলবন্দি এলাকা নৌকায় করে পরিদর্শন করেন এলাকার বিধায়ক রতন চক্রবর্তী। তিনি প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন এবং জলবন্দি মানুষের উদ্ধারের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

বিধায়ক জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন জনপ্রতিনিধিরাও। তাঁর দাবি, বলদাখাল এলাকাটিই তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও মরিয়মনগর, কালীনগর ও বৃদ্ধি নগর-সহ বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

রতন চক্রবর্তী আরও জানান, দেবতা ছড়ার জল উল্টো দিকে প্রবাহিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে নদী ও ছড়া সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলিতে জলস্তর আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে বিমানবন্দর সংলগ্ন আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গেছে, আগামী বুধবার পর্যন্ত উত্তর ত্রিপুরা, ঊনকোটি, ধলাই, খোয়াই, পশ্চিম ত্রিপুরা এবং গোমতী জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কবার্তা জারি রয়েছে। পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিন হাওড়া নদী-সহ বিভিন্ন নদী ও ছড়ার জলস্তর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর লাগাতার নজর রাখা হচ্ছে। নদী ও ছড়া সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজানের জলের চাপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার নিতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যেই উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করেছে প্রশাসন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *