আগরতলা, ১২ জুলাই : রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী ও নাগরিকবান্ধব করে তুলতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল রাজধানী আগরতলায়। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার হাত ধরে রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষেবা প্রদান শুরু করল আগরতলা সিভিল হাসপাতাল। আপাতত ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালকে আগামী দিনে ধাপে ধাপে একটি অত্যাধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রবিবার বিকেলে বিশেষ কোনও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন ছাড়াই হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, স্বাস্থ্য দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আধিকারিক সাজু ওয়াহিদসহ স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা।
উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং পরিকাঠামো ও পরিষেবার খুঁটিনাটি বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবা রাজ্য সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্র এবং মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলা সিভিল হাসপাতাল চালু হওয়ার ফলে রাজধানী শহরের বাসিন্দারা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। এই উদ্যোগকে সফলভাবে বাস্তবায়িত করার জন্য তিনি আগরতলা পুর নিগম, স্বাস্থ্য দফতর এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতাল রাজ্য সরকার, স্বাস্থ্য দফতর, আগরতলা পুর নিগম এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের যৌথ প্রচেষ্টার ফল এবং এটি শহরবাসীর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ উপহার। স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ঘাটতির কারণে যাতে সাধারণ মানুষ সমস্যার সম্মুখীন না হন, সেদিকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী দিনেও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে এই হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে রোগীদের উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করা যায়।
হাসপাতালে প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ বা ওপিডি পরিষেবা চালু থাকবে। এছাড়াও প্রসূতি মায়েদের জন্য লেবার রুমের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যা মাতৃসেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে হাসপাতালটির পরিষেবা ও কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হলে এবং বর্তমানে সংলগ্ন এলাকায় থাকা পাসপোর্ট অফিস ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বিকল্প জায়গায় স্থানান্তরিত হলে হাসপাতালটির আরও সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের কাজ হাতে নেওয়া হবে। তখন এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
রাজধানী আগরতলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে আগরতলা সিভিল হাসপাতালের সূচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন আগরতলার জনগণ।

