আগরতলা, ১৬ আগস্ট : অপেক্ষার আর মাত্র ৬১ দিন। পিতৃগৃহে মা উমার আগমনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই শারদোৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে রাজধানী আগরতলায়। রবিবার খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে মণ্ডপ ও প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু করল রাজধানীর দুই উল্লেখযোগ্য পুজো উদ্যোক্তা—স্মৃতি ক্লাব এবং শান্তিপাড়ার ঐকতান যুব সংস্থা। দুই পুজোতেই এবার থাকছে ভিন্নধর্মী থিম ও বিশেষ আয়োজন।
প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে এবছর দর্শনার্থীদের সামনে হাজির হচ্ছে স্মৃতি ক্লাব। তাদের পুজোর থিম ‘বীজ থেকে সৃষ্টি, সৃষ্টি থেকে সেবা’। পরিবেশ দূষণের ফলে বিশ্বজুড়ে ক্রমশ উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার বিষয়টিকে সামনে রেখে এই থিম বেছে নিয়েছেন ক্লাবের সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, পৃথিবীকে সুস্থ ও বাসযোগ্য রাখতে উদ্ভিদের বিকল্প নেই। তাই পুজোর মণ্ডপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে গাছপালা ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
রবিবার স্মৃতি ক্লাবে বৈদিক রীতিনীতি মেনে খুঁটিপুজোর আয়োজন করা হয়। ক্লাবের জনৈক সদস্য জানান, ১২ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে তাঁদের এবারের থিমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। রবিবার খুঁটিপুজোর পর থেকেই পুরোদমে শুরু হবে মণ্ডপ নির্মাণের কাজ।
প্রতিবারের মতো এবারও স্মৃতি ক্লাবের পুজোর মণ্ডপ, প্রতিমা ও আলোকসজ্জার কাজে স্থানীয় শিল্পী ও উদ্যোক্তাদেরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মৃৎশিল্পী তীর্থ পাল চিন্ময়ী মাকে মৃন্ময়ী রূপ দেবেন। মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে থাকবেন রাহুল ঘোষ। আলোকসজ্জার দায়িত্বে থাকবে দাস ডেকোরেটর। ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর স্মৃতি ক্লাবের পুজোর আনুমানিক বাজেট ২০ লক্ষ টাকা।
অন্যদিকে রাজধানীর অন্যতম বড় বাজেটের পুজো হিসেবে পরিচিত শান্তিপাড়ার ঐকতান যুব সংস্থা এবার দর্শনার্থীদের জন্য নিয়ে আসছে দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত ভেলোরের শ্রীপুরা মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপ। রবিবার বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় খুঁটিপুজো। খুঁটিপুজোর পর থেকেই শুরু হবে মণ্ডপ নির্মাণের কাজ।
ঐকতান যুব সংস্থার পুজো কমিটির সম্পাদক দ্বীপ দাশগুপ্ত জানান, তাঁদের পুজোর বাজেট নির্দিষ্ট কোনও অঙ্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রতিবছরই পুজোর পরিধি ও আয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজেটের পরিমাণ বাড়ে। তাই এখনই চূড়ান্ত বাজেট বলা সম্ভব নয়। তবে এবছর আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ লক্ষ টাকা বাজেট হতে পারে বলে তিনি জানান।
ঐকতান যুব সংস্থার মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে থাকবেন নবদ্বীপের শিল্পী সুরজিৎ দেবনাথ। প্রতিমা নির্মাণ করবেন রাজ্যের মৃৎশিল্পী উত্তম চক্রবর্তী। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নজরকাড়া আলোকসজ্জারও বিশেষ আয়োজন থাকছে। আলোকসজ্জার দায়িত্বে থাকবে দিল্লির পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীরাও।
রাজধানীর পুজো উদ্যোক্তাদের মতে, শারদোৎসব এখনও বেশ কিছুটা দূরে থাকলেও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করার প্রতিযোগিতা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলির পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি বাজেটের পুজো উদ্যোক্তারাও পিছিয়ে নেই। বিভিন্ন ক্লাব ইতিমধ্যেই নিজেদের থিম নির্বাচন করে খুঁটিপুজোর মাধ্যমে মণ্ডপ নির্মাণের সূচনা করতে শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে দুর্গাপুজো যত এগিয়ে আসছে, ততই উৎসবের আবহ তৈরি হচ্ছে রাজধানী আগরতলায়। একদিকে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা, অন্যদিকে দেশের ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের স্থাপত্যকে মণ্ডপে তুলে ধরার প্রয়াস—দুই পুজোর ভিন্নধর্মী ভাবনা এবারের শারদোৎসবে দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করবে বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

