আগরতলা, ২৩ আগস্ট : ১৩-প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্রে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের কাজকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলের বিধায়কের উদ্যোগে সম্পন্ন হওয়া উন্নয়নমূলক কাজের ফলক ভেঙে নর্দমায় ফেলে দেওয়া, কাজের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাটমানি দাবি এবং সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রতাপগড়ের বাম বিধায়ক রামু দাস। তাঁর অভিযোগ, শাসকদল ঘনিষ্ঠ কিছু সমাজদ্রোহী সরকারি উন্নয়নমূলক কাজকেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক রামু দাস জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে ১৩-প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ১৫টি রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৩টি রাস্তার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।
বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের মাধ্যমে সম্পন্ন কাজের তদারকির দায়িত্ব মহকুমা প্রশাসনের। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্থানে কাজটির বিবরণ এবং বিধায়কের নাম-সহ ফলক স্থাপন করা হয়। কিন্তু প্রতাপগড়ের বিভিন্ন এলাকায় সেই ফলকই ভাঙচুর করে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ বিধায়কের।
রামু দাসের অভিযোগ, পশ্চিম প্রতাপগড়ের কবিরাজটিলা এলাকায় ৪১ নম্বর ওয়ার্ড অফিস সংলগ্ন একটি রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার পর সেখানে স্থাপন করা ফলকটি দুষ্কৃতীরা ভেঙে নর্দমায় ফেলে দিয়েছে। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট রাস্তার কাজটি সম্পূর্ণ সরকারি প্রকল্পের আওতায় করা হয়েছে। জনগণের মতামত নিয়েই ওই রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত রাস্তার কাজের ফলক ভেঙে ফেলার ঘটনায় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শুধু কবিরাজটিলা নয়, এর আগেও ঠাকুরপল্লী, মুসলিমপাড়া-সহ প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় নবনির্মিত রাস্তার ফলক ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিধায়ক। একের পর এক এই ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
এর পাশাপাশি আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন রামু দাস। তাঁর দাবি, বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের কাজের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদারদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ‘কাটমানি’ দাবি করা হচ্ছে। এই কারণে প্রথমদিকে অনেক ঠিকাদার কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে ঠিকাদারদের বুঝিয়ে কাজ করানো হলেও কাজের জায়গায় স্থাপিত ফলক ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে দাবি তাঁর।
বাম বিধায়কের অভিযোগ, বিরোধী দলের বিধায়ক হওয়ার কারণে তাঁর বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের কাজকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। সরকারি অর্থে জনগণের জন্য করা উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধকে যুক্ত করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের কাজ দেখভালের দায়িত্ব মহকুমা প্রশাসনের উপর থাকলেও অভিযোগগুলি জানার পরও সদর মহকুমা শাসকের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসীর একাংশ। কেন একের পর এক সরকারি কাজের ফলক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনের তরফে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতাপগড়ের রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি অর্থে নির্মিত উন্নয়নমূলক কাজের ফলক ভাঙচুর এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে কথিত কাটমানি দাবির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে শাসকদল বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

