আগরতলা, ৪ নভেম্বর : ‘কেউ খাবে, কেউ খাবে না’—এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং গোটা ব্যবস্থার পরিবর্তন চায় জেন-জি। ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির নামে রাজনীতি নয়, সকলের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে সরব নতুন প্রজন্ম। বুধবার আগরতলার দশরথ দেব স্মৃতি অডিটোরিয়ামে এসএফআই আয়োজিত ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও, শিক্ষা ও সংবিধান রক্ষা করো’ শীর্ষক জেন-জি ছাত্র সমাবেশে এই বক্তব্য তুলে ধরেন এসএফআই-এর সর্বভারতীয় নেত্রী ঐশী ঘোষ।
দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান সামাজিক বৈষম্য নিয়ে জেন-জি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তব পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ছাত্র-যুব সমাজের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এই উদ্বেগ থেকেই নতুন প্রজন্ম পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঐশী ঘোষ অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করছে না। একদিকে বিভিন্ন মূর্তি নির্মাণ ও রাজনৈতিক সমাবেশে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, অন্যদিকে অর্থের অভাবে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এর ফলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং ভবিষ্যতে অশিক্ষার হার বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী, বিজেপি ও আরএসএস-এর নেতাদের বিরুদ্ধে দেশের মুষ্টিমেয় শিল্পপতিদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও তোলেন ঐশী ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর জন্য কোটি কোটি টাকার পোশাকের ব্যবস্থা হলেও সাধারণ মানুষের শিক্ষা ও মৌলিক চাহিদা পূরণে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে জেন-জির আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
ঐশী ঘোষ বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি এবং দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার দাবিতে জেন-জি ইতিমধ্যেই আন্দোলনে নেমেছে। সেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছাত্র-যুবদের সঙ্গে কথা বলতে এবং তাঁদের ভাবনা জানতে তিনি আগরতলায় এসেছেন। তাঁর মতে, নতুন প্রজন্মের দাবি কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং এমন একটি ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা, যেখানে কাউকে বঞ্চনা ও দুর্ভোগের শিকার হতে হবে না।
দেশে মদের দোকানের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মাদক ও গাঁজার মতো নেশাসামগ্রীর পাচার বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এসএফআই-এর সর্বভারতীয় নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের পরিস্থিতি কাম্য নয়। সমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে নেশার বিস্তার রোধ এবং যুবসমাজের জন্য সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।
‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’, ‘শিক্ষা ও সংবিধান রক্ষা করো’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত সমাবেশে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং বামপন্থী বিভিন্ন শাখা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বটতলা ভুটানি মার্কেটে আগ্নেয়াস্ত্রের চালান, তিনটি পিস্তল সহ বিহারের দুই যুবক গ্রেফতার , ৫০টি বুলেট ও ছয়টি ম্যাগাজিন উদ্ধার
আগরতলা, ৪ নভেম্বর (হি.স.) : গোপন সূত্রে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আগরতলার বটতলা টিআরটিসি কমপ্লেক্স সংলগ্ন ভুটানি মার্কেট থেকে দুই বহিরাগত যুবককে আটক করল পশ্চিম আগরতলা থানা ও বটতলা ফাঁড়ির পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, ৫০টি বুলেট এবং ছয়টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে অবৈধ অস্ত্র কারবারের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ এবং বটতলা ফাঁড়ির পুলিশ যৌথভাবে ভুটানি মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে তাঁদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই যুবক বিহার থেকে ট্রেনে করে আগরতলায় এসেছিল। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় কোনও ব্যক্তির কাছে পিস্তল ও গুলি বিক্রি করা। তবে কার কাছে অস্ত্রগুলি বিক্রির পরিকল্পনা ছিল, কীভাবে তাঁরা এই অস্ত্র সংগ্রহ করেছিল এবং এর পিছনে কোনও বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন আইপিএস সিদ্ধা লিঙ্গাপা পূজা। তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশি তদন্তে উঠে আসা তথ্য এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি জানার অপেক্ষায় রয়েছে সংবাদমহল।
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা বটতলা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অস্ত্র পাচারের সঙ্গে যুক্ত অন্য কোনও ব্যক্তি বা চক্রের সন্ধান পাওয়া যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।

