আগরতলা, ২৯ অক্টোবর : বইপ্রেমী, লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের মিলনমেলা আগরতলা বইমেলার ৪৫তম আসর শুরু হতে চলেছে আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৪ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত হাঁপানিয়ার আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে ৪৫তম আগরতলা বইমেলা। বইমেলাকে সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার রাজধানী আগরতলায় মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায়, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে, দফতরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক পদ্মশ্রী ড. অরুণোদয় সাহা, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ড. বিশাল কুমার-সহ সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এদিনের প্রস্তুতি সভায় আসন্ন বইমেলার আয়োজন, পরিকল্পনা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় জানান, প্রাথমিকভাবে আগামী ৪ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে ৪৫তম আগরতলা বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বইমেলাকে সফল করে তুলতে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আগরতলা বইমেলা দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে। প্রতি বছর এই বইমেলাকে কেন্দ্র করে লেখক, সাহিত্যিক, কবি, প্রাবন্ধিক, প্রকাশক ও বইপ্রেমীদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। নতুন বইয়ের প্রকাশ, সাহিত্যচর্চা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমীদের একত্রিত হওয়ার সুযোগও তৈরি হয়।
এবার ৪৫তম বর্ষে পদার্পণ করতে চলেছে আগরতলা বইমেলা। ফলে এবারের আয়োজন ঘিরেও ইতিমধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বইপ্রেমী মহলে। আগামী ৪ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মেলা অনুষ্ঠিত হলে টানা ১৩ দিন ধরে বই ও সাহিত্যের জগতে মেতে ওঠার সুযোগ পাবেন পাঠকরা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার পাশাপাশি অন্যান্য প্রকাশকের অংশগ্রহণ, নতুন বইয়ের সম্ভার এবং সাহিত্য-সংস্কৃতিভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি বইমেলার আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বইমেলার মতো বৃহৎ আয়োজনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক সমন্বয়, মেলা প্রাঙ্গণের পরিকাঠামো, নিরাপত্তা, দর্শনার্থীদের সুবিধা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃহস্পতিবারের প্রস্তুতি সভায় সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি সেই প্রস্তুতি প্রক্রিয়ারই প্রাথমিক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বইমেলার অন্যান্য কর্মসূচি, অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থা এবং আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী পর্যায়ে জানা যাবে।
সব মিলিয়ে, নতুন বছরের শুরুতেই ফের বইয়ের জগতে মিলিত হওয়ার অপেক্ষায় থাকবেন রাজ্যের পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমীরা। প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, জানুয়ারির ৪ তারিখ থেকে হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে শুরু হতে চলেছে ৪৫তম আগরতলা বইমেলা।

