iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

পুর ও নগর ভোটে ইন্ডি জোটের ভাঙন, একলা লড়াইয়ে কংগ্রেস

আগরতলা, ৪ নভেম্বর : আসন্ন নগর সংস্থা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইন্ডি জোটের ঐক্যে ফের চিড় ধরল। আলোচনা ছাড়াই সিপিআইএম একতরফাভাবে প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়ায় কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা ভেস্তে গেল। ফলে নগর নির্বাচনে এককভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। বুধবার আগরতলা কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা। একইসঙ্গে আগরতলা পুর নিগমের ৫১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪৯টি ওয়ার্ডে কংগ্রেস প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

গত ৩০ অক্টোবর রাজধানীতে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচিতে কংগ্রেস ও সিপিআইএম-এর নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে রাজপথে হাঁটলেও নগর নির্বাচনে সেই ঐক্যের প্রতিফলন ঘটল না। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, বিজেপি-র বিরুদ্ধে যৌথ আন্দোলনের মঞ্চে যে ঐক্যের ছবি দেখা গিয়েছিল, নির্বাচনী লড়াইয়ে তা কেন ধরে রাখা গেল না?

এদিন কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে প্রদেশ সভাপতি আশীষ কুমার সাহা জানান, আগরতলা পুর নিগমের ৪৯টি ওয়ার্ডে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন ২৫ জন মহিলা প্রার্থী। ৩০ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থীদের নাম পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার মনোনীত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেবেন বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিক সম্মেলনে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন জোট ভাঙনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ৩০ অক্টোবরের কর্মসূচিতে কংগ্রেস ও সিপিআইএম-এর কর্মী-সমর্থকসহ সাধারণ মানুষ একযোগে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সকলেই চাইছিলেন ইন্ডি জোটের পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে লড়াই করা হোক। কিন্তু কর্মসূচির পর কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ সর্বভারতীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লি চলে যাওয়ায় আলোচনা এগোতে পারেনি।

তিনি জানান, ১ নভেম্বর বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী রাজ্যে ফিরে আসেন। সেদিনই সিপিআইএম ২৬ জন প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করে এবং তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিল করানো হয়। পাশাপাশি জানানো হয়, বাকি আসনগুলির অধিকাংশে কংগ্রেস প্রার্থী দেবে এবং বামফ্রন্টও কয়েকটি আসনে প্রার্থী দেবে।

সুদীপ রায় বর্মনের অভিযোগ, জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে লড়াই করার জন্য কংগ্রেসকে আলোচনার কোনও সুযোগই দেয়নি সিপিআইএম। যদিও বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর জোট গঠনের সদিচ্ছা ছিল বলে দাবি করেন তিনি। কংগ্রেস বিধায়কের বক্তব্য, সিপিআইএম-এর একাংশ নেতার ‘বিগ ব্রাদার’ মানসিকতার কারণেই জিতেন্দ্র চৌধুরীর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পুর ও নগর নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করা সম্ভব হয়নি।

এদিন আগরতলা পুর নিগমের পাশাপাশি অন্যান্য নগর সংস্থার জন্যও কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জানান, উদয়পুর, সাব্রুম, শান্তিরবাজার, বিলোনিয়া ও অমরপুর নগর সংস্থার নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

নগর নির্বাচনের আগে বিরোধী শিবিরের এই বিভাজন রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিজেপিকে পরাস্ত করার লক্ষ্যে বিরোধী দলগুলির ঐক্যের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, কংগ্রেস ও সিপিআইএম-এর পৃথক প্রার্থী ঘোষণায় তা বড়সড় ধাক্কা খেল। এখন নির্বাচনী ময়দানে দুই দলের পৃথক লড়াই ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *