আগরতলা, ২৩ জুন : ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (টিবিএসই) মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মেধা তালিকা প্রকাশ করেছে। পর্ষদের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মেধা তালিকা প্রকাশ করেন পর্ষদ সভাপতি ডঃ ধনঞ্জয় গণচৌধুরী এবং সচিব জয়দীপ ভট্টাচার্য।
এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম দশটি স্থানে জায়গা করে নিয়েছে মোট ১৩ জন ছাত্রছাত্রী। এর মধ্যে ৪৯৬ নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে পিএম শ্রী দক্ষিণ অমরপুর টাউন এইচএস স্কুলের ছাত্র শুভ্রজিৎ সরকার। ৪৮৩ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দিরের ছাত্রী ঐশীকা পাল। তৃতীয় স্থান দখল করেছে উত্তর জেলার সেন্ট ফ্রান্সিস এসইসি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী এলিজা সাংমা, যার প্রাপ্ত নম্বর ৪৭৯।
অপরদিকে, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যসেরা হয়েছে পিএম শ্রী জোলাইবাড়ি এমএম গার্লস স্কুলের ছাত্রী পূজা দত্ত। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৯১। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে কামিনী কুমার সিংহ মেমোরিয়াল দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ছাত্রী তৃপ্তি দাস। যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে অম্পিনগর এইচএস স্কুলের ছাত্র অয়ন সাহা এবং রামকমল এইচএস স্কুলের ছাত্রী দিয়া নাথ।
পর্ষদ সভাপতি ডঃ ধনঞ্জয় গণচৌধুরী জানান, উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম তিনটি স্থানই কলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের দখলে গেছে। শুধু তাই নয়, প্রথম দশটি স্থানে থাকা মোট ১৫ জন কৃতীর মধ্যে ১১ জনই কলা বিভাগের ছাত্রছাত্রী। বাকি চারজন বিজ্ঞান বিভাগের।
সাংবাদিক সম্মেলনে পর্ষদ সভাপতি কৃতী ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁদের এই সাফল্য ভবিষ্যতের শিক্ষাজীবনে আরও বড় অর্জনের পথ প্রশস্ত করবে। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের ভূমিকাকেও তিনি বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেন।
এদিন পর্ষদ সচিব জয়দীপ ভট্টাচার্য রিভিউ সংক্রান্ত পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তিনি জানান, চলতি বছরে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের জন্য ৯৭২ জন ছাত্রছাত্রী আবেদন করেছিল। এর মধ্যে ৫৬৮ জনের ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার রিভিউয়ের জন্য আবেদন করেছিল ১,৩৫৯ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ৮০১ জনের ফলাফলে পরিবর্তন হয়েছে।
সচিব আরও জানান, যেসব ছাত্রছাত্রী বিভিন্ন কারণে মূল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদের জন্য ‘বছর বাঁচাও’ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। এই পরীক্ষায় মাধ্যমিক স্তরে ৮৮৪ জন এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ১,৮০২ জন ছাত্রছাত্রী অংশ নেবে।
মেধা তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে রাজ্যের শিক্ষা মহলে উৎসাহ-উদ্দীপনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়, শিক্ষক ও অভিভাবক মহল কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে ‘বছর বাঁচাও’ পরীক্ষার সুযোগ পাওয়ায় বহু পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এক বছর পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও দূর হয়েছে।

