আগরতলা, ৪ নভেম্বর : আসন্ন পুর ও নগর সংস্থা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ভোটের বিভাজন রুখতে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার পথে এগুচ্ছে সিপিআইএম। বিজেপিকে পরাজিত করতে সমস্ত অবিজেপি ভোটকে ঐক্যবদ্ধ করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য বলে জানালেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন দলের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে সেই মতপার্থক্য দূর করে ঐক্যবদ্ধ লড়াই গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামী ১০ নভেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনকে সামনে রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বিজেপিকে পরাজিত করার স্বার্থে প্রয়োজনে সিপিআইএম এক-দু’পা পিছিয়ে এসে আসন ছাড়তেও প্রস্তুত বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।
তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, আসন্ন নির্বাচনে বিরোধী ভোটের বিভাজন বিজেপির জয়ের পথ আরও প্রশস্ত করতে পারে। তাই আসন নিয়ে দলীয় অবস্থান ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে সিপিআইএম। বিজেপিকে কোনওভাবেই ওয়াকওভার দিতে রাজি নয় দল।
এদিকে, সিপিআইএম ইতিমধ্যেই কয়েকটি আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব আসনে বিরোধী দলের কোনও প্রার্থী নেই, সেখানে বিজেপি যাতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার সুযোগ না পায়, সেই লক্ষ্যেই প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর মতে, নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজেপিকে প্রতিটি আসনে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলাই বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্তব্য।
আসন সমঝোতা নিয়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তা মিটিয়ে নেওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে বিরোধী ভোটের ঐক্য অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যেই কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সিপিআইএম।
সব মিলিয়ে, আসন্ন পুর ও নগর সংস্থা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরে আসন সমঝোতার তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে। ১০ নভেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সিপিআইএম ও কংগ্রেসের আলোচনার চূড়ান্ত পরিণতির দিকে।

