iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

১,৪৩৬ কোটি টাকায় আগরতলায় আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিং, আওতায় পুরনিগমের ৫১টি ওয়ার্ড

আগরতলা, ২৯ অক্টোবর  : আগরতলা শহরের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে বৃহস্পতিবার সূচনা হলো আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিং প্রকল্পের। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা এবং বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথের উপস্থিতিতে বড়দোয়ালী এলাকায় এই প্রকল্পের ভূমিপূজন করা হয়। একই সঙ্গে ইউটিলিটি ডাক্ট অ্যাগ্রিগেশন মডেল প্রকল্পেরও আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এই প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ১,৪৩৬ কোটি টাকা। আগরতলা পুর নিগমের ৫১টি ওয়ার্ডকে প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্য সরকার ও ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হতে চলা এই প্রকল্পের মাধ্যমে আগরতলা শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ও ওভারহেড লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। নতুন প্রকল্পের আওতায় এই তারের একটি বড় অংশ ভূগর্ভস্থ ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়া হবে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শহরের পরিকাঠামো আরও সুশৃঙ্খল হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের সূচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আগরতলায় আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিং ব্যবস্থা চালু হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুৎ পরিষেবা আরও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও। উন্নত বিদ্যুৎ পরিকাঠামো রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার শুধু বর্তমান প্রজন্মের কথা চিন্তা করে কাজ করছে না, আগামী প্রজন্মের জন্যও উন্নত, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। ইউটিলিটি ডাক্ট অ্যাগ্রিগেশন মডেল প্রকল্পের মাধ্যমে নাগরিক পরিষেবার পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক ও পরিকল্পিত করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিন নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির জন্য সৌরবিদ্যুতের সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা’-র লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজ্যে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর্থিক সমস্যার কারণে অনেক নিম্ন আয়ের পরিবার বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসাতে পারে না। সেই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেডের (টিএসইসিএল) মাধ্যমে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার পরিবারের বাড়ির ছাদে ১ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। এই পরিকল্পনার আওতায় সংশ্লিষ্ট নিম্ন আয়ের পরিবারগুলিকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সোলার প্ল্যান্ট দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এর ফলে রাজ্যের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, গত আট বছর ধরে রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ, আধুনিকীকরণ, নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে। বিদ্যুৎ পরিষেবার মান উন্নত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে উন্নত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রায় ১,৪৩৬ কোটি টাকার আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিং প্রকল্প এবং দেড় লক্ষ পরিবারের বাড়িতে বিনামূল্যে সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনাকে রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *