iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

বাল্যবিবাহ ও শিশুগর্ভধারণ রুখতে সমবেত উদ্যোগের আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর

আগরতলা, ২৯ অক্টোবর  : বাল্যবিবাহ ও শিশুগর্ভধারণের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানালেন রাজ্যের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী  টিংকু রায়। তাঁর কথায়, বাল্যবিবাহ ও শিশুগর্ভধারণের কুফল শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর প্রভাব পড়ে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের উপরও। অনেক ক্ষেত্রে এ কারণে রক্তের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়। তাই রক্তদানের মতো মানবিক উদ্যোগের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং শিশুর সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দিকেও সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। বৃহস্পতিবার আগরতলার রাধানগরে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের উদ্যোগে সতর্কতা সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত রক্তদান শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই আহ্বান জানান তিনি।

২৬ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে সতর্কতা সচেতনতা সপ্তাহ। রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি প্রতিরোধ, সততা প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ‘সমৃদ্ধির জন্য সততা’—এই বার্তাকে সামনে রেখে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বৃহস্পতিবার আগরতলার রাধানগরে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের প্রাঙ্গণে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়।

এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী টিংকু রায়। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের উৎসাহিত করেন উপস্থিত অতিথিরা। ব্যাংকের কর্মচারী এবং বিভিন্ন সমাজসেবী সংস্থার সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণে শিবিরে উৎসাহ-উদ্দীপনার পরিবেশ তৈরি হয়। এদিন মোট ৪০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রক্তদান একটি মহৎ দান। মানুষের জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে রক্তের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসতে হবে। রক্তের প্রয়োজন দেখা দিলে যাতে রোগীদের সমস্যায় পড়তে না হয়, সেই লক্ষ্যে নিয়মিত রক্তদান শিবিরের আয়োজন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।

তবে রক্তদানের পাশাপাশি কোন কোন কারণে রক্তের চাহিদা বাড়ছে, সেদিকেও নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বাল্যবিবাহ ও অল্প বয়সে গর্ভধারণের ফলে অনেক মা নানা ধরনের শারীরিক জটিলতার সম্মুখীন হন। একইভাবে শিশুর স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসার জন্য রক্তের প্রয়োজন দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শুধু রক্তের জোগান বাড়ানো নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যার মূল কারণগুলিও প্রতিরোধ করতে হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রায় ৪০ লক্ষ জনসংখ্যার ত্রিপুরায় বর্তমানে ৮০ হাজার শিশু দিব্যাঙ্গ রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে বাল্যবিবাহ ও শিশুগর্ভধারণের মতো বিষয়গুলিকে শিশুদের স্বাস্থ্যগত সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, অল্প বয়সে মাতৃত্বের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

এদিন বিকশিত ভারত গঠনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশকে বিকশিত ভারত হিসেবে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত করতে সরকারি দফতরের আধিকারিক থেকে শুরু করে কর্মচারীরা নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জন শুধুমাত্র সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

টিংকু রায়ের কথায়, বিকশিত ভারত মানে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, বরং একটি সুন্দর, নির্মল, সুস্থ ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলা। যেখানে প্রতিটি শিশুর বেড়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ থাকবে, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে এবং সামাজিক সমস্যাগুলির বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। এই লক্ষ্য পূরণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সতর্কতা সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের এই রক্তদান শিবিরের মাধ্যমে একদিকে যেমন মানবসেবার বার্তা দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে সততা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। ৪০ জনের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিকে সফল করে তুলতে ব্যাংকের কর্মচারী ও সমাজসেবী সংস্থার সদস্যদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। সরকারের উন্নয়নমূলক লক্ষ্য বাস্তবায়নের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *