আগরতলা, ১০ সেপ্টেম্বর : বাড়ির ভিতর থেকে ভেসে আসছিল তীব্র দুর্গন্ধ। সন্দেহ দানা বাঁধে মায়ের মনে। বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, গেট খোলা থাকলেও ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে দরজা খুলে উদ্ধার করে পচা-গলা মৃতদেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী আগরতলায় কলেজটিলা পুলিশ ফাঁড়ির অধীন ঈশ্বর পাঠশালা পল্লী এলাকায়।
মৃত ব্যক্তির নাম সজল বণিক, বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বর পাঠশালা সংলগ্ন ওই বাড়িতে একাই থাকতেন তিনি। তাঁর স্ত্রী ও ছেলে মোহনপুরে থাকেন। অন্যদিকে তাঁর মা আড়ালিয়ার ঘোষপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন। সংসারে স্ত্রী, সন্তান ও মা থাকলেও সজলবাবু কার্যত একাই বসবাস করতেন ওই বাড়িতে।
জানা গেছে, সজল বণিকের নির্দিষ্ট কোনও কাজ ছিল না। যখন যে কাজ পেতেন, সেটিই করতেন। প্রায় প্রতিদিনই তিনি মায়ের কাছে গিয়ে খাবার খেয়ে আসতেন। কিন্তু গত তিন দিন ধরে মায়ের বাড়িতে খাবার খেতে না যাওয়ায় তাঁর মনে সন্দেহ তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ছেলের খোঁজ নিতে ঈশ্বর পাঠশালা পল্লীর বাড়িতে চলে আসেন তিনি।
বাড়িতে পৌঁছে গেট খোলা দেখতে পেলেও ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখতে পান সজলের মা। এরই মধ্যে বাড়ির ভিতর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি স্থানীয় কয়েকজনকে ডাকেন। স্থানীয়রাই খবর দেন পুলিশকে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কলেজটিলা ফাঁড়ির পুলিশ। পরে ঘরের দরজা খুলে ভিতর থেকে সজল বণিকের পচা-গলা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
কলেজটিলা পুলিশ ফাঁড়ির এক আধিকারিক জানান, সজল বণিক নেশা করতেন। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে সজলের মায়ের দাবি, তাঁর ছেলে নেশাগ্রস্ত ছিলেন। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় খাট থেকে পড়ে গিয়ে কোনওভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন তিনি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে এবং ঠিক কতক্ষণ আগে সজল বণিকের মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘরের পরিস্থিতি ও অন্যান্য বিষয়ও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
একাকী বসবাসকারী ওই ব্যক্তির এমন নিঃসঙ্গ মৃত্যুর ঘটনায় ঈশ্বর পাঠশালা পল্লী এলাকায় শোকের আবহের পাশাপাশি তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

