আগরতলা, ৭ সেপ্টেম্বর : পুজোর মুখে রাজধানী আগরতলায় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শালবাগান বিএসএফ ফ্রন্টিয়ারের সামনে থেকে দু’টি অত্যাধুনিক পিস্তল ও তাজা কার্তুজসহ বহিঃরাজ্যের দুই যুবককে আটক করেছে আসাম রাইফেলস। ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি ম্যাগাজিন এবং আট রাউন্ড তাজা কার্তুজও উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দু’টি আগ্নেয়াস্ত্রই ৭.৬২ এমএম বোরের বলে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্ত্র পাচারের নেপথ্যে থাকা চক্রের সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, রবিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ৩৫ আসাম রাইফেলসের জওয়ানরা শালবাগান এলাকায় অভিযান চালান। শালবাগান বিএসএফ ফ্রন্টিয়ারের সামনে সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসতেই দুই যুবককে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে তাঁদের কাছ থেকে দুটি অত্যাধুনিক পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন এবং আট রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়।
সোমবার দুপুরে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত দুই যুবকের নাম সুরজ কুমার ও শ্রীকান্ত কুমার। তাঁদের মধ্যে সুরজ কুমারের বাড়ি বিহারের বৈশালী জেলায় এবং শ্রীকান্ত কুমারের বাড়ি বিহারের রামসি জেলায়। উদ্ধার হওয়া দুটি পিস্তলের মধ্যে একটি অস্ত্রে ‘ইউএস মেড’ লেখা রয়েছে। অন্য পিস্তলটিতে কোনও দেশের নাম বা নির্দিষ্ট কোনও সিলছাপ্পা পাওয়া যায়নি। উভয় অস্ত্রই ৭.৬২ এমএম বোরের।
আসাম রাইফেলসের জওয়ানরা ধৃতদের এনসিসি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন। রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ধৃতদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা। প্রাথমিক জেরায় অস্ত্র পাচারের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে।
সোমবার ধৃত দুই যুবককে পাঁচ দিনের পুলিশি রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে সোপর্দ করে এনসিসি থানার পুলিশ। আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্রের উৎস এবং পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য এখন উদ্ধার হওয়া অস্ত্র দুটি কোথা থেকে ত্রিপুরায় আনা হয়েছিল এবং কার কাছে সেগুলি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তা খুঁজে বের করা। পাশাপাশি এই অস্ত্র পাচারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অস্ত্রের ‘ব্যাকওয়ার্ড’ এবং ‘ফরওয়ার্ড’ লিঙ্ক অনুসন্ধান করে পুরো চক্রের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ দশ বছর পর ত্রিপুরা ট্রাইব্যাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) ভিলেজ কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, সিআরপিএফ, বিএসএফ এবং টিএসআর-এর পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাজধানীর বুকে দুটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে দুর্গাপুজোর আগে শহরে অস্ত্রের এই চালান আটক হওয়ায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল কি না, নাকি এগুলি অন্য কোনও জায়গায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল—তা জানতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

