iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

কৃষক-শ্রমজীবীদের বঞ্চনার বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক বামেদের

আগরতলা, ১ সেপ্টেম্বর : ত্রিপুরার কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের বঞ্চনা লাঘবে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাল সারা ভারত কৃষক সভা। মঙ্গলবার রাজধানী আগরতলায় স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে সংগঠনের ত্রিপুরা রাজ্য শাখার রাজ্য সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত প্রকাশ্য সমাবেশ থেকে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। বৃষ্টি ভেজা ময়দানে বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ ও সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

মঙ্গলবার থেকেই আগরতলা টাউন হলে শুরু হয়েছে সারা ভারত কৃষক সভার ত্রিপুরা রাজ্য শাখার ২২তম রাজ্য সম্মেলন। সম্মেলন চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এদিন দুপুরে স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে আয়োজিত হয় প্রকাশ্য সমাবেশ। বৃষ্টির মধ্যেও সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সারা ভারত কৃষক সভার সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণাণ দেশের কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, সারা দেশের পাশাপাশি ত্রিপুরার কৃষকরাও বর্তমান সরকারের আমলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে ধান চাষি ও রাবার চাষিদের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে দাবি করেন তিনি।

বিজু কৃষ্ণাণের বক্তব্য, কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছেন না। বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা উৎপাদনজনিত ক্ষতির মুখে পড়লেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে, সার নিয়েও কৃষকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহ করা ইউরিয়া সার খোলা বাজারে চলে যাওয়ার ফলে কৃষকদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এর ফলে কৃষির উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অথচ উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য মিলছে না।

ধান ও রাবার চাষিদের সমস্যার দ্রুত সমাধান, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানোর দাবিতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কৃষকদের স্বার্থে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলারও বার্তা দেন কৃষক সভার সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীও রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, কৃষক সভার এই প্রকাশ্য সমাবেশে মানুষ যাতে অংশগ্রহণ করতে না পারেন, সেই লক্ষ্যে গত দুদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হুমকির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। এমনকি মঙ্গলবার কোথাও কোথাও যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের উপস্থিতি যথেষ্ট ছিল বলে দাবি করেন বিরোধী দলনেতা।

জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে এবং সংবিধানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতিকেই শাসক দল ‘মডেল রাজ্য’ হিসেবে তুলে ধরছে এবং একই ধরনের মডেল গোটা দেশে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে। এর বিরুদ্ধে শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, যুবক এবং সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সারা ভারত কৃষক সভার ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক পবিত্র কর-সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, কৃষিপণ্যের মূল্য, সার সরবরাহ, কৃষকের আয় এবং রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

এদিকে, এদিনের প্রকাশ্য সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে আয়োজিত সিআইটিইউ-এর রাজ্য সম্মেলন এবং জেলে ভরো আন্দোলনের তুলনায় এদিনের সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বৃষ্টি সত্ত্বেও এত মানুষের জমায়েতকে সংগঠনের প্রতি জনসমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে বাম শিবির।

তবে সমাবেশে উপস্থিতির রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন মত রয়েছে। আগামী দিনে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের বিভিন্ন দাবিকে সামনে রেখে সারা ভারত কৃষক সভা কতটা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আগরতলা টাউন হলে সারা ভারত কৃষক সভার ত্রিপুরা রাজ্য শাখার ২২তম রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে সংগঠনের সাংগঠনিক বিষয়ের পাশাপাশি রাজ্যের কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *