আগরতলা, ৭ সেপ্টেম্বর : এলাকায় মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাবা ও দুই ছেলেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় তিনজনই গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে একজন বর্তমানে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিসি থানার অন্তর্গত হাইকোর্ট, গোয়ালা বস্তি ও দিল্লি পাবলিক স্কুল সংলগ্ন এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগকারী সঞ্জীত রায়ের দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এলাকার যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে তিনি মাদক বিক্রির বিরুদ্ধে সরব হন। অভিযুক্তদের এলাকায় ড্রাগস বিক্রি না করার জন্য বাধা দেওয়াই তাঁর অপরাধ হয়ে দাঁড়ায় বলে অভিযোগ।
সঞ্জীত রায়ের অভিযোগ, এই বিষয়কে কেন্দ্র করে অনিল রায়, পিন্টু রায়, আকাশ রায় ও বিকি রায় তাঁর উপর চড়াও হন। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি দেখে সঞ্জীত রায়কে রক্ষা করতে তাঁর ছোট ভাই ও বাবা এগিয়ে এলে তাঁদের উপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
হামলায় তিনজনই গুরুতর আহত হন। তাঁদের মধ্যে সঞ্জীত রায়ের ছোট ভাইয়ের আঘাত তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় তাঁকে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর সঞ্জীত রায় ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এনসিসি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের দাবি, ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ আহতদের।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সঞ্জীত রায় বলেন, এলাকায় মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে যদি সাধারণ মানুষকেই এভাবে আক্রান্ত হতে হয়, তাহলে এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আহত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, থানায় মামলা দায়ের করার পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এতে তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন সঞ্জীত রায় ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসন ও পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।

