ফটিকরায় , ৩০ এপ্রিল : মাটির দেওয়াল মুহূর্তে কেড়ে নিল একটি নিষ্পাপ প্রাণ। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্তব্ধ ফটিকরায়ের রাধানগর—অকালেই ঝরে গেল পাঁচ বছরের অঙ্কুশ মালাকার।
বুধবার সন্ধ্যার পর হঠাৎই বিপর্যয় নেমে আসে রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। পেশায় গাড়িচালক নিবাস মালাকারের সাধারণ কাঁচা বাড়ির রান্নাঘরের মাটির দেওয়াল আচমকাই ভেঙে পড়ে। সেই সময় ঘরের ভেতরে খেলছিল দুই ছোট শিশু—অঙ্কুশ ও তার ভাই আয়ুষ। মুহূর্তের মধ্যেই ভয়ংকর সেই ধ্বংসস্তূপ চাপা দেয় তাদের কোমল দেহ।
বাড়ির ভেতর থেকে বিকট শব্দ শুনে ছুটে আসেন মা ও দিদা। চোখের সামনে এই দৃশ্য দেখে তাঁরা যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। মুহূর্তেই ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। কান্না, চিৎকার আর উৎকণ্ঠার মাঝে দ্রুত দুই শিশুকে উদ্ধার করে ফটিকরায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
কিন্তু সেখানেই চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন হৃদয়বিদারক খবর—পাঁচ বছরের অঙ্কুশ আর নেই। গুরুতর আহত অবস্থায় তার ভাই আয়ুষকে দ্রুত কৈলাসহর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে সে এখনও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে।
অঙ্কুশের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়। হাসপাতাল চত্বরজুড়ে তখন শুধু মায়ের বুকফাটা কান্না—যেন আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে সেই আর্তনাদে। দরিদ্র এই পরিবারের ওপর নেমে আসা এই বিপর্যয় স্থানীয়দেরও গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আহত ছোট্ট আয়ুষকে ঘিরে।
ঘটনার খবর পেয়ে ফটিকরায় থানার পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। মৃত অঙ্কুশের দেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আজ ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
একটি ভাঙা দেওয়াল শুধু একটি ঘর নয়, ভেঙে দিল একটি পরিবারের স্বপ্ন, ছিনিয়ে নিল মায়ের কোলে থাকা সন্তানকে। রাধানগরে আজ নিস্তব্ধতা—শুধু বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে এক নাম, অঙ্কুশ মালাকার।

