iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

অর্থের অভাবে থমকে শিশুর চিকিৎসা, জীবন বাঁচাতে সাহায্যের আকুতি

আগরতলা, ২৯ জুন : আড়াই বছরের একরত্তি শিশুর জীবন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। লিভারের জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুটিকে বাঁচাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। সেই অর্থ জোগাড় করতে না পেরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন শিশুটির বাবা-মা।

জানা গেছে, সদর মহকুমার ঊষাবাজার বৈশ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাজীব সরকার পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। সীমিত আয়ের এই পরিবারের আড়াই বছরের ছোট ছেলে প্রায় চার মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে চিকিৎসকদের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও তেমন কোনও জটিলতা ধরা পড়েনি। কিন্তু কিছুদিন পর শিশুটি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। তখন চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে চিকিৎসকরা শিশুটিকে দিল্লির একটি হাসপাতালে রেফার করেন। তবে সেখানে চিকিৎসা করাতে গেলে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় হবে বলে পরিবারের দাবি। দিনমজুরির মতো অনিয়মিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল একজন কাঠমিস্ত্রির পক্ষে এত বিপুল অর্থের ব্যবস্থা করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এদিকে দিন যত যাচ্ছে, শিশুটির শারীরিক অবস্থারও ততই অবনতি হচ্ছে। রবিবার সামাজিক মাধ্যমে শিশুটির অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে। সেই খবর দেখে সোমবার দুপুরে ঊষাবাজারের স্থানীয় ভারতরত্ন ক্লাবের প্রতিনিধিরা রাজীব সরকারের বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

সোমবার দুপুরে সংবাদমাধ্যম শিশুটির বাড়িতে গেলে সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা, ক্লাবের সদস্য এবং পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। এদিন ভারতরত্ন ক্লাবের জনৈক কার্যকর্তা এবং শিশুটির বাবা রাজীব সরকার সংবাদমাধ্যমের সামনে শিশুটির অসুস্থতার করুণ বিবরণ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সমাজসেবী ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষের কাছে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানান।

এদিন শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাঁকে দ্রুত আগরতলায় জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কা, সময়মতো উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না হলে শিশুটির জীবন সংকট আরও গভীর হতে পারে।

এদিকে সন্তানের শারীরিক অবস্থার অবনতিতে ভেঙে পড়েছেন শিশুটির মা। বাড়িতে উপস্থিত সকলের সামনেই তিনি কান্নায় বারবার ভেঙে পড়েন এবং সন্তানকে বাঁচানোর জন্য সবার কাছে সাহায্যের আকুতি জানান। স্থানীয় বাসিন্দারাও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে শিশুটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত কোনও সরকারি দফতরের প্রতিনিধি পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলে অভিযোগ। এলাকাবাসীর আশা, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা মিললে হয়তো আড়াই বছরের এই শিশুটি নতুন করে বেঁচে থাকার সুযোগ পাবে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *