আগরতলা, ৫ আগস্ট: বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে সপ্তাহব্যাপী গণআন্দোলনের সূচনা করেছে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। বুধবার আগরতলায় ওরিয়েন্ট চৌমুহনী এলাকায় সদর জেলা কংগ্রেস কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত তিন ঘণ্টার গণ-অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। কর্মসূচি থেকে সাধারণ মানুষকে মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ।
গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্ব, বিভিন্ন শাখা সংগঠনের পদাধিকারী, কর্মী-সমর্থকসহ বহু মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনকারীরা বিদ্যুতের বর্ধিত মাশুল প্রত্যাহার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ কমানোর দাবিতে স্লোগান দেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা সুশান্ত চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, রাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগাতার বৃদ্ধি পেলেও বাজার ব্যবস্থার ওপর সরকারের কার্যকর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তাঁর দাবি, মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। অথচ প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানাতে গেলেও বিরোধী মতকে দমন করার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, “মানুষ যখন নিজেদের অধিকার ও ন্যায্য দাবির কথা বলছে, তখন তাঁদের নানা ভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষ আজ শোষণ ও বঞ্চনার শিকার।” এই পরিস্থিতিতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রদেশ কংগ্রেস জানিয়েছে, শুধু আগরতলাতেই নয়, বুধবার রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও একই দাবিতে তিন ঘণ্টার গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ ধরে জেলা, মহকুমা সদর এবং বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ধারাবাহিকভাবে একই ধরনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ওপর জনমত গড়ে তুলে বিদ্যুতের মাশুল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হবে বলেও কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছে।
কংগ্রেসের দাবি, ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচে রাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। তাই অবিলম্বে মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যুতের বর্ধিত মাশুল পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

