iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

নির্মাণকাজ করতে গিয়ে গুরুতর আহত শ্রমিক

আগরতলা, ৫ আগস্ট: আগরতলা শহরের উপকন্ঠে চানমারি এলাকার বিবেকানন্দ পল্লীতে নির্মীয়মান একটি বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে জনৈক নির্মাণ শ্রমিক গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আহত শ্রমিকের নাম রাজীব বণিক। তাঁর বাড়ি সিপাহিজলা জেলার বিশালগড় এলাকায়। বুধবার সকালে কাজ করার সময় একতলা থেকে নিচে পড়ে গুরুতর জখম হন তিনি। বর্তমানে তিনি আগরতলায় জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বুধবারও রাজীব বণিক বিশালগড় থেকে আগরতলায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতে আসেন। চানমারি বিবেকানন্দ পল্লী এলাকায় অধ্যাপক তীর্থ রাম রিয়াং-এর নির্মীয়মান বাড়িতে তিনি কাজ করছিলেন। বৃহস্পতিবার ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাই হওয়ার কথা থাকায় নির্মাণসামগ্রী উপরে তোলার কাজ চলছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মাথায় পাথরভর্তি টুকরি নিয়ে একতলার ছাদে ওঠার সময় হঠাৎ পা ফসকে নিচে পড়ে যান রাজীব বণিক। পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি গুরুতর আহত হন। সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

এদিকে, ঘটনার খবর বাড়ির মালিককে জানানো হলেও দুপুর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে আহত শ্রমিককে দেখতে যাননি বলে অভিযোগ তুলেছেন সহকর্মীরা। তাঁদের দাবি, দুর্ঘটনার পর আহত শ্রমিকের পাশে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, খোঁজখবর নিতেও বাড়ির মালিকের কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মাণ শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বাড়ির মালিকের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নির্মাণ শ্রমিকদের একাংশের অভিযোগ, রাজ্যে একের পর এক নির্মাণস্থলে দুর্ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয় না। কয়েকদিন আগেও একটি নির্মাণাধীন ভবনের তিনতলা থেকে পড়ে জনৈক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনাতেও আহত শ্রমিককে নিয়ে একই ধরনের অবহেলার অভিযোগ উঠেছিল।

শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য শ্রম দফতরের অধীনে চিকিৎসা সহায়তা, দুর্ঘটনা অনুদান ও অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প থাকলেও অধিকাংশ শ্রমিক অসংগঠিত খাতে কাজ করায় বা নিবন্ধিত না থাকায় সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার ব্যয়ভার এবং পরিবারের আর্থিক সংকটের পুরো বোঝা শ্রমিকদেরই বহন করতে হচ্ছে।

ঘটনার পর নির্মাণক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, শ্রমিকদের সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং অসংগঠিত নির্মাণ শ্রমিকদের দ্রুত সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *