iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

সপ্তম শ্রেণির গণিত বইয়ের প্রচ্ছদ নিয়ে বিতর্ক, এসসিইআরটি-র কাছে ডেপুটেশন ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটির

আগরতলা, ১১ মে : সপ্তম শ্রেণির গণিত বইয়ের প্রচ্ছদে ‘নবগ্রহ যন্ত্র’-এর ছবি এবং বইয়ের কিছু বিষয়বস্তু ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে। ত্রিপুরা যুক্তিবাদ বিকাশ মঞ্চের প্রতিবাদের পর এবার এই ইস্যুতে সরব হয়েছে বিজ্ঞানমনস্ক সংগঠন ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটি, ত্রিপুরা চ্যাপ্টার।

সোমবার সংগঠনের প্রতিনিধিরা এসসিইআরটি-র সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে একটি ডেপুটেশন প্রদান করেন। ডেপুটেশনে তাঁরা সপ্তম শ্রেণির গণিত বই থেকে বিতর্কিত অংশ এবং প্রচ্ছদের সংশ্লিষ্ট চিত্র অপসারণের দাবি জানান।

সংগঠনের সদস্যদের বক্তব্য, ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞানভিত্তিক ও যুক্তিনির্ভর শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যেই তাঁরা এই দাবি তুলেছেন। তাঁদের মতে, আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলোকে ‘রাহু’, ‘কেতু’, ‘সূর্য’ এবং ‘চন্দ্র’কে একই অর্থে ‘গ্রহ’ হিসেবে উপস্থাপন করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।

তাঁরা ব্যাখ্যা করে বলেন, সূর্য একটি নক্ষত্র, চন্দ্র পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ, আর রাহু ও কেতুর কোনও বাস্তব জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক অস্তিত্ব নেই। এগুলি মূলত প্রাচীন জ্যোতিষশাস্ত্রে ব্যবহৃত প্রতীকী ধারণা। ফলে শিক্ষার্থীদের গণিত বইয়ের প্রচ্ছদে এই ধরনের প্রতীক ব্যবহার করলে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংগঠনের অভিযোগ, বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রাচীন জ্যোতিষশাস্ত্রের ধারণাকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁরা মনে করেন, পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু ও অলংকরণ এমন হওয়া উচিত যা সম্পূর্ণভাবে বিজ্ঞানসম্মত, যুক্তিসঙ্গত এবং আধুনিক জ্ঞানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটির প্রতিনিধিরা জানান, শিক্ষাব্যবস্থায় কুসংস্কার বা অবৈজ্ঞানিক ধারণার কোনও স্থান থাকা উচিত নয়। বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের স্বার্থে পাঠ্যবই থেকে বিতর্কিত অংশ দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য তাঁরা এসসিইআরটি কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সপ্তম শ্রেণির গণিত বইয়ের প্রচ্ছদ এবং ‘ম্যাজিক বর্গসমূহ’ অধ্যায় নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বিজ্ঞানমনস্ক সংগঠন এই বিষয়টিকে অবৈজ্ঞানিক ও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যা দিয়ে এর সংশোধনের দাবি তুলেছে। ত্রিপুরাতেও সেই প্রতিবাদের সুর ক্রমশ জোরালো হয়ে উঠছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *