আগরতলা, ৩০ এপ্রিল : নারী শক্তি অধিনিয়ম বিল পাসের লক্ষ্যে রাজ্যের সকল বিধায়ক-বিধায়িকাদের একজোট হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী সাহা রায়। বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধ্যক্ষ রামপদ জমাতিয়া আহূত একদিনের বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
রাজ্য বিধানসভার ১৭ জন সদস্যের আবেদনের ভিত্তিতে এই বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়। এদিন অধিবেশনে নারী শক্তি অধিনিয়ম বিলের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন মুখ্য সচেতক। তিনি বলেন, ভারতীয় নারীদের সাংবিধানিক অধিকার আরও সুদৃঢ় ও সুরক্ষিত করতে এই বিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই মহিলা—তাই রাষ্ট্র গঠনে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই আইন প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
কল্যাণী সাহা রায় তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নারী ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন প্রকল্প—যেমন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, স্বচ্ছতা অভিযানের অধীনে শৌচালয় নির্মাণ, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’, ‘লাখপতি দিদি’ প্রভৃতি—নারীদের আত্মনির্ভর করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রীর আস্থা এইসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্পষ্ট বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালে পাস হওয়া নারী সংরক্ষণ বিলকে আরও কার্যকর করতে কিছু সংশোধনী এনে লোকসভার বিশেষ অধিবেশনে তা পাস করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিরোধী শিবির, বিশেষত রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে, এই বিলের বিরোধীতা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের বিষয়টি বিরোধীরা মেনে নিতে পারেনি বলেই এই বিরোধীতা দেখা যায়।
মুখ্য সচেতক আরও বলেন, ওই বিশেষ অধিবেশনে মোট ১৩০ জন বক্তার মধ্যে ৫৬ জন মহিলা সদস্যও বিলটির বিরোধীতা করেছিলেন, যা দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর মতে, নারীর অধিকারের প্রশ্নে সকলেরই ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত ছিল।
এদিনের বিশেষ অধিবেশনে তিপ্রা মথা দলের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা এবং নন্দিতা রিয়াং-সহ একাধিক সদস্য সংশ্লিষ্ট বিল নিয়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন। নারী শক্তি অধিনিয়ম বিল নিয়ে এই আলোচনা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

