আগরতলা, ৪ নভেম্বর : ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উৎপাদিত সামগ্রীর গুণগত মান বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির পরিসর সম্প্রসারণের উপর জোর দিলেই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সুফল পেতে পারে ত্রিপুরা। রাজ্যের শিল্পোদ্যোগীদের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎপাদনের মানোন্নয়ন, বাজার চিহ্নিতকরণ এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বুধবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সদ্ব্যবহার নিয়ে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মশালায় এই অভিমত ব্যক্ত করেন রাজ্য সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে।
ভারত সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব ডঃ সি. ভাউলাল রামসাঙ্গা, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক এবং শিল্পোদ্যোগীরা। কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় তথা ত্রিপুরার উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা সম্পর্কে শিল্পোদ্যোগীদের সচেতন করা এবং চুক্তির সুবিধা গ্রহণের পথ দেখানো।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। এই চুক্তিগুলির মাধ্যমে নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাস বা শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে দেশীয় উৎপাদকদের সামনে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য বিক্রির নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সেই সুযোগ কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েই রাজ্যগুলিতে সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সচিব কিরণ গিত্যে জানান, ত্রিপুরার অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সন্তোষজনক। এই ক্ষেত্রের বিভিন্ন শাখায় বৃদ্ধির হার ৮, ১০ এমনকি ১২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে উৎপাদিত পণ্যের বাজার স্থিতিশীল করা এবং নতুন বাজার খুঁজে বের করা জরুরি।
তিনি বলেন, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখার দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে গুণমান, নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ এবং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়গুলিতে গুরুত্ব দিলে ত্রিপুরার শিল্পোদ্যোগীরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলির বাজারেও নিজেদের পণ্য রপ্তানির সুযোগ পাবেন।
শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের সচিব আরও জানান, উৎপাদিত পণ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিষেবা ক্ষেত্রের উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পণ্য বিক্রির পর রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামতি ও অন্যান্য পরিষেবা নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
কর্মশালায় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন ভারত সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব ডঃ সি. ভাউলাল রামসাঙ্গা। চুক্তির সুযোগ, রপ্তানি প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে শিল্পোদ্যোগীদের করণীয় সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের আশা, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে এই সচেতনতা রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের রপ্তানি সম্ভাবনাকে আরও প্রসারিত করবে এবং ত্রিপুরার অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিশা দেখাবে।

