কদমতলা, ৪ এপ্রিল : উত্তর ত্রিপুরা জেলার কদমতলা থানার অন্তর্গত দক্ষিণ কদমতলা এলাকায় শনিবার সকালে একটি পুকুর থেকে জনৈক ব্যক্তির রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার ধারের একটি পুকুরে মৃতদেহটি ভাসতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে কদমতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পরে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি ওই এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জমির উদ্দিন (৪০)।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মৃতদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, বিশেষ করে মুখমণ্ডলে গুরুতর আঘাত থাকায় প্রথমে মৃতদেহটি শনাক্ত করতে অসুবিধা হয়েছিল। এছাড়া পুকুরের আশপাশে রক্তের দাগ পাওয়া যাওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। পুলিশের অনুমান, অন্য কোথাও খুন করে মৃতদেহটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পুলিশের জনৈক আধিকারিক জানিয়েছেন, “ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। প্রতিটি দিক গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।”
এদিকে, প্রাথমিক সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন হাসিনা বেগম (৪৫) (কাল্পনিক নাম) এবং তাঁর ছেলে আব্দুল হোসেন। তাঁদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানা গেছে।
ধর্মনগর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত কর্মকার গোটা তদন্ত প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

