আগরতলা, ১০ জুলাই : উন্নয়নের প্রচারে শহরের আনাচে-কানাচে শাসকদলের নেতা-মন্ত্রিদের ফ্লাক্সে ছেয়ে গেলেও বাস্তবে রাজ্যের গ্রাম ও পাহাড়ে অভাব-অনটন ক্রমশ প্রকট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর দাবি, উন্নয়নের প্রচারের আড়ালে সাধারণ মানুষের দুর্দশা ও বঞ্চনার বাস্তব চিত্র চাপা পড়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সরব হন বিরোধী দলনেতা। তিনি শহরের বিভিন্ন এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং শাসকদলের নেতাদের ছবি সম্বলিত বিপুল সংখ্যক ফ্লাক্স ও ব্যানার টাঙানোর সমালোচনা করে বলেন, “শহরের আনাচে-কানাচে উন্নয়নের প্রচারে ফ্লাক্সের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এই প্রচারের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির বিস্তর ফারাক রয়েছে।”
জিতেন চৌধুরীর অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, রাস্তা এবং জনবহুল এলাকায় যত্রতত্র ফ্লাক্স ও ব্যানার লাগানো হচ্ছে, যা শুধু শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছে না, অনেক ক্ষেত্রে যানবাহন চালকদের দৃষ্টিসীমাও বাধাগ্রস্ত করছে। তাঁর মতে, শহরে বেড়ে চলা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণও এই ধরনের অনিয়ন্ত্রিত ফ্লাক্স সংস্কৃতি।
রাজ্যের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সম্প্রতি ঋষ্যমুখ ব্লকের রামগাইবাড়ি এলাকার এক পরিবারের সদ্যোজাত কন্যা সন্তান বিক্রির ঘটনাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, ওই ঘটনা রাজ্যের গ্রাম ও পাহাড়ি এলাকার মানুষের চরম আর্থিক সংকট ও খাদ্যাভাবের নির্মম বাস্তব চিত্র সামনে এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, “যে রাজ্যে অভাবের তাড়নায় একটি পরিবারকে সদ্যোজাত সন্তান বিক্রি করতে হয়, সেই রাজ্যে উন্নয়নের বড়াই করে ফ্লাক্স লাগানো মানুষের ক্ষত আরও গভীর করে।”
এদিন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক এলাকায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সামাজিক ভাতা পাওয়ার জন্য বারবার সরকারি দফতরে যেতে হচ্ছে। বহু সুবিধাভোগী গত তিন থেকে চার মাস ধরে ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
একই সঙ্গে পুলিশ ও টিএসআর জওয়ানদের রেশন মানি প্রদানে বিলম্ব নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর দাবি, গত তিন- চার মাস ধরে বহু পুলিশ ও টিএসআর কর্মী রেশন মানি পাচ্ছেন না, যার ফলে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, সামাজিক ভাতা এবং রেশন মানির মতো বিষয়গুলি সরকারের “কমিটেড ফান্ড”-এর অন্তর্ভুক্ত এবং বাজেটে তার জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ থাকে। বাজেট পাসের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এই খাতে অর্থের ঘাটতি কেন দেখা দিল, সেই প্রশ্নও তিনি সরকারের কাছে উত্থাপন করেন।
যদিও বিরোধী দলনেতার উত্থাপিত অভিযোগগুলির বিষয়ে সরকারের তরফে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

