iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

ত্রিপুরায় কৃষকের আয় দ্বিগুণের পথে, কাকড়াবনে ধান ক্রয়ের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা

উদয়পুর , ১০ জুলাই  : ত্রিপুরায় কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করে চলেছে। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ, কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, ভর্তুকি সহায়তা এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার গোমতী জেলার কাকড়াবন দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয় মাঠে কৃষকদের কাছ থেকে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (এমএসপি) ধান ক্রয় কর্মসূচির সূচনা অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত মূলত একটি কৃষিনির্ভর দেশ এবং দেশের অর্থনীতিতে কৃষকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র সরকার একাধিক জনমুখী প্রকল্প চালু করেছে। সেইসঙ্গে ত্রিপুরা সরকারও কৃষকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা তাঁদের কাছে পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা, পিএম-কিষাণ সম্মাননিধি, পিএম-কুসুম যোজনা সহ একাধিক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির সুফল যাতে প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকরাও পান, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে রাজ্য সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে কৃষকদের আর্থিক উন্নয়নের জন্য সুসংহত পরিকল্পনার অভাব ছিল। এর ফলে অনেক কৃষকের মধ্যেই কৃষিকাজের প্রতি অনীহা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন সহায়তার ফলে বহু কৃষক পতিত জমি পুনরুদ্ধার করে আবারও চাষাবাদ শুরু করেছেন।

তিনি জানান, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদনের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৮ সাল থেকে রাজ্য সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় কর্মসূচি চালু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত রাজ্যের কৃষকদের কাছ থেকে মোট ২ লক্ষ ৬১ হাজার ২৬৯ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। এর বিপরীতে সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৫২০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্যের ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৬৬ জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

পিএম-কিষাণ সম্মাননিধি প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত রাজ্যের কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৯৬৯ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা জমা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনার আওতায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা মোট ১০ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৪ লক্ষ ৫৭ হাজারের বেশি কৃষক ঋণ সুবিধা পেয়েছেন। এছাড়াও সয়েল হেলথ কার্ডের মাধ্যমে ২ লক্ষ ৫৩ হাজারেরও বেশি কৃষক মাটির গুণগত মান সম্পর্কে তথ্য পেয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত হয়েছেন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ভর্তুকির ভিত্তিতে কৃষকদের বিভিন্ন আধুনিক কৃষিযন্ত্রও সরবরাহ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, ২০১৮ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বছরে দু’বার কৃষকদের কাছ থেকে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কুইন্টাল ধান ২ হাজার ৩৬৯ টাকা দরে ক্রয় করা হচ্ছে। এর ফলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কৃষিকাজের প্রতি তাঁদের আগ্রহও বাড়ছে।

তিনি বলেন, কৃষকদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলার পাশাপাশি কৃষিকে লাভজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একযোগে কাজ করছে। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধাও নিয়মিতভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, গোমতী জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, কাকড়াবন পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন সুপ্রিয়া সাহা, গোমতী জেলার জেলাশাসক রিংকু লাথের প্রমুখ।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *