iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

অনুমতি ছিল, ডিজিপি ছিলেন না — ক্ষোভে ফেটে পড়লেন এসপিও পরিবারের সদস্যরা

আগরতলা, ১০ জুলাই : স্পেশাল পুলিশ অফিসার (এসপিও) জওয়ানদের পরিবারের সদস্যদের ডেপুটেশন গ্রহণ না হওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাজ্য পুলিশের সদর দফতরের সামনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী পুলিশের মহা নির্দেশক (ডিজিপি)-এর কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে এসে তাঁরা জানতে পারেন, ডিজিপি উপস্থিত নেই এবং স্মারকলিপি গ্রহণের জন্য অন্য কোনও আধিকারিককেও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপস্থিত এসপিও পরিবারের সদস্যরা।

এসপিও জওয়ানদের পরিবারগুলির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে তাঁরা আন্দোলন ও আবেদন জানিয়ে আসছেন। সেই প্রেক্ষিতে দশ দফা দাবির ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশকের কাছে ডেপুটেশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্ধারিত কর্মসূচির বিষয়ে আগেই চিঠির মাধ্যমে ডিজিপি-কে অবহিত করা হয়েছিল এবং অনুমতিও মিলেছিল বলে দাবি তাঁদের।

শুক্রবার সকালে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু এসপিও জওয়ানের পরিবারের সদস্যরা আগরতলায় পুলিশ সদর দফতরের সামনে সমবেত হন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মহিলা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ডেপুটেশন জমা দিতে গেলে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকরা জানান, ডিজিপি অফিসে উপস্থিত নেই এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে স্মারকলিপি গ্রহণের জন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে এদিন ডেপুটেশন গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, বহু দূর-দূরান্ত থেকে ব্যক্তিগত খরচে আগরতলায় এসেও তাঁরা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পেলেন না। আন্দোলনকারীদের একাংশের বক্তব্য, এটি তাঁদের প্রতি অবজ্ঞা ও অসম্মানের পরিচয়। তাঁরা দাবি করেন, এসপিওদের পরিবারগুলিও সমাজের অংশ এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনার ন্যূনতম মানবিক দায়িত্ব প্রশাসনের রয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁরা কোনও সংঘাত বা অশান্তি সৃষ্টি করতে আসেননি, বরং নিজেদের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও দুর্দশার কথা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সামনে তুলে ধরতেই এসেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও ডেপুটেশন গ্রহণের ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

এদিন তাঁদের উত্থাপিত ১০ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল এসপিওদের চাকরি নিয়মিতকরণ, চাকরিরত অবস্থায় কোনও এসপিওর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা প্রদান, পুলিশের অন্যান্য কর্মীদের মতো ১৩ মাসের বেতন প্রদান, সামাজিক সুরক্ষা এবং অবসরকালীন সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি।

আন্দোলনকারীরা সতর্ক করে জানান, ভবিষ্যতেও যদি তাঁদের দাবি ও সমস্যাকে এভাবে উপেক্ষা করা হয়, তবে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা। প্রয়োজনে রাজপথে নেমে আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *