iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

২৪ জুন থেকে ত্রিপুরায় জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধের হুঁশিয়ারি আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের

আগরতলা, ২২ জুন : পুনর্বাসনের দাবিতে ২৪ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধের ঘোষণা দিল ১৯৯৮ সালের আগে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা দুই জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। আগরতলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে জয়েন্ট অ্যাকশন রিহ্যাবিলিটেশন কমিটি (জেএআরসি) এবং জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির (জেএসি) নেতৃত্ব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, দীর্ঘদিন ধরে দাবি-দাওয়া নিয়ে সরকারের দ্বারস্থ হওয়ার পরও কোনও ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় তাঁরা এই কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন।

সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত দশরথ দেবের আমলে রাজ্য সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের বহু সদস্য অস্ত্র ত্যাগ করে মূলস্রোতে ফিরে আসেন। সেই সময় তাঁদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি তাদের।

নেতৃবৃন্দ জানান, পুনর্বাসনসহ ৯ দফা দাবির ভিত্তিতে সম্প্রতি তাঁরা জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা এবং পরে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার কাছে পৃথকভাবে স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে আট দিনের মধ্যে দাবিগুলি পূরণের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়। একইসঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও ইতিবাচক সাড়া না মিললে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা।

তাঁদের দাবি, স্মারকলিপি প্রদানের পর নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আলোচনা বা আশ্বাস পাওয়া যায়নি। ফলে আন্দোলন ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই বলে মনে করছেন তাঁরা। সেই কারণেই আগামী ২৪ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধ কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হবে বড়মুড়া পাহাড় সংলগ্ন সাধুচন্দ্রপাড়া এলাকায়। পাশাপাশি ভৃগুদাসপাড়া এলাকায় রেল অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি প্রত্যাহারের কোনও সম্ভাবনা নেই বলেও ইঙ্গিত দেন নেতারা।

জেএআরসি-র কার্যকরী সভাপতি পাশা রাম ত্রিপুরা ওরফে থমাস বলেন, “আমরা সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে বহু বছর আগে অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছিলাম। কিন্তু আজও আমাদের অধিকাংশ সদস্য চরম আর্থিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও পুনর্বাসনের কোনও বাস্তব পদক্ষেপ না হওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনের পথে নামছি।”

সাংবাদিক সম্মেলনে জেএআরসি-র পক্ষে কার্যকরী সভাপতি পাশা রাম ত্রিপুরা ওরফে থমাস, সহ-সভাপতি বিনোদ দেববর্মা এবং সাধারণ সম্পাদক অনন্ত কুমার জামাতিয়া উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি উত্তম জয় রিয়াং, সাধারণ সম্পাদক নীলাচরণ জামাতিয়া-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আসন্ন এই অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন আন্দোলনের আগে সরকার আলোচনার উদ্যোগ নেয় কি না, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *