iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, অবশেষে খুলছে লাইট হাউসের দরজা

আগরতলা, ২৮ অক্টোবর  : দীর্ঘ প্রতীক্ষা, বারবার সময়সীমা পরিবর্তন এবং নির্মাণকাজের বিলম্বের পর অবশেষে আগরতলার বর্ডার গোল চক্কর, আখাউড়া রোড এলাকার লাইট হাউস প্রকল্পের একাংশের উদ্বোধন হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার এই প্রকল্পের ‘এ’ ও ‘এফ’ ব্লকের মোট ২৭৮টি আবাসিক ইউনিটের উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডাঃ) মানিক সাহা। পাশাপাশি নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

দীর্ঘদিন ধরে লাইট হাউস প্রকল্পের ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অপেক্ষায় ছিলেন ভোক্তারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে আবাসনগুলি হস্তান্তরের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবে তা পূরণ হতে যথেষ্ট সময় লেগেছে। বিভিন্ন পর্যায়ে নির্মাণকাজের বিলম্ব, অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন এবং বারবার সময়সীমা পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পটি নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠেছে। অবশেষে বৃহস্পতিবার ২৭৮টি আবাসিক ইউনিটের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় সম্পন্ন হতে চলেছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আগরতলা-সহ দেশের ছয়টি স্থানে লাইট হাউস প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আগরতলার বর্ডার গোল চক্কর এলাকার প্রকল্পে মোট সাতটি ব্লকে এক হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শহরের আবাসন পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নির্ধারিত ভোক্তাদের জন্য উন্নত আবাসনের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হয়।

প্রাথমিকভাবে আগরতলার লাইট হাউস প্রকল্পের জন্য ১৬২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দের কথা জানা গিয়েছিল। সেই পরিকল্পনা ঘিরে শুরুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট প্রত্যাশা তৈরি হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় ফ্ল্যাট হস্তান্তর পিছিয়ে যায়। ২০২২ সালের মধ্যে আবাসনগুলি হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। নির্মাণকাজের অগ্রগতি, অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান এবং সময়সীমা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা সামনে আসে।

দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্পের উপভোক্তাদের মধ্যে অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। একদিকে যেমন আধুনিক আবাসনের স্বপ্ন দেখেছিলেন তাঁরা, অন্যদিকে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ‘এ’ ও ‘এফ’ ব্লকের ২৭৮টি আবাসিক ইউনিটের উদ্বোধনকে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে বৃহস্পতিবারের উদ্বোধন প্রকল্পের সম্পূর্ণ সমাপ্তি নয়। মোট এক হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনার মধ্যে আপাতত ২৭৮টি আবাসিক ইউনিট উদ্বোধন করা হচ্ছে। বাকি ইউনিটগুলির নির্মাণ ও হস্তান্তরের অগ্রগতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের। একই সঙ্গে উদ্বোধনের পর আবাসিক ইউনিটগুলি ভোক্তাদের হাতে কবে তুলে দেওয়া হবে, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগরতলার লাইট হাউস প্রকল্পের একাংশের উদ্বোধন শহরের আবাসন পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তবে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং ভোক্তাদের হাতে দ্রুত ফ্ল্যাট হস্তান্তরই হবে এই উদ্যোগের সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *