iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

বড়নারায়ণে শ্বশুরবাড়ির রান্নাঘরে গুলিভর্তি পিস্তল উদ্ধার, জামাতাকে ঘিরে রহস্য

বক্সনগর , ২৭ অক্টোবর : রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক পিস্তল উদ্ধারের ঘটনায় যখন নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই সিপাহীজলা জেলার যাত্রাপুর থানাধীন বড়নারায়ণ এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে পাঁচ রাউন্ড তাজা কার্তুজ সহ পিস্তল উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক বিবাদের জেরে জামাতা পিস্তল নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে হামলা করতে এসেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এই ঘটনার পর পিস্তল উদ্ধারের স্থান ও পরিস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। কীভাবে অস্ত্রটি রান্নাঘরে পৌঁছাল, সেটি কার এবং ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত সত্য কী—এখন সেই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়নারায়ণ এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেনের পরিবারের সঙ্গে তাঁর ২৬ বছর বয়সি জামাতা লোকমান হোসেনের পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, ওই বিবাদের জেরেই লোকমান পিস্তল নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে হামলা করতে আসেন। পরিস্থিতি ক্রমশ গুরুতর হয়ে উঠছে বুঝতে পেরে দ্রুত যাত্রাপুর থানায় খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে যাত্রাপুর থানার এসআই অমর কিশোর দেববর্মা ও এএসআই তপন দেবনাথের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, লোকমান হোসেনকে বাড়ির একটি বারান্দায় তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এরপর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে রান্নাঘর থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ অস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করে এবং লোকমান হোসেনকে থানায় নিয়ে যায়।

কিন্তু পিস্তল উদ্ধারের পর থেকেই গোটা ঘটনা ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, লোকমান যদি পিস্তল নিয়ে হামলা করতে এসে থাকেন, তাহলে তাঁকে আটক করে বারান্দায় তালাবদ্ধ করে রাখার সময় অস্ত্রটি কোথায় ছিল? উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি কীভাবে বাড়ির রান্নাঘরে পৌঁছাল? অস্ত্রটি কি লোকমানের কাছেই ছিল, নাকি অন্য কোথাও রাখা হয়েছিল? এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও কৌতূহল ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তাঁদের একাংশের মনে প্রশ্ন, পারিবারিক বিবাদের এই ঘটনায় অস্ত্রের উপস্থিতি কীভাবে ঘটল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত? যদিও এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর তদন্তের আগে দেওয়া সম্ভব নয়, তবুও পিস্তল উদ্ধারের ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, গৃহকর্তা কামাল হোসেনের দাবি, তাঁরা চরম ভয়ের পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন। সেই কারণেই বাধ্য হয়ে এমন পদক্ষেপ করতে হয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে উদ্ধার হওয়া পিস্তলের মালিকানা, অস্ত্রটি কোথা থেকে এল এবং ঘটনার সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটানো জরুরি।

এ বিষয়ে যাত্রাপুর থানার ওসি পার্থ নাথ ভৌমিক জানান, ফোনে খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পিস্তলসহ অভিযুক্ত লোকমান হোসেনকে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে লোকমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাঁকে আগামীকাল আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও জানান ওসি।

তবে পিস্তল উদ্ধার এবং পারিবারিক বিবাদের এই ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা, অস্ত্রের উৎস ও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশি তদন্তেই স্পষ্ট হবে, ঠিক কী কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল এবং উদ্ধার হওয়া পিস্তলটির সঙ্গে অভিযুক্তের সম্পর্ক কী।

সব মিলিয়ে বড়নারায়ণের এই ঘটনা শুধু পারিবারিক বিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং অস্ত্র উদ্ধারের পরিস্থিতি ঘিরে একাধিক প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। এখন পুলিশের তদন্ত কতটা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে সেই প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *