iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

সরকারি অফিসে চুরি, এনসিসি পুলিশের জালে ৯ জনের গ্যাং! উদ্ধার কম্পিউটারের সরঞ্জাম

আগরতলা, ২৮ অক্টোবর : রাজধানী আগরতলায় সরকারি দফতরে চুরির ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল নিউ ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স (এনসিসি) থানার পুলিশ। কুঞ্জবন এলাকার ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন, রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড রিসেটেলমেন্ট অথরিটির কার্যালয় থেকে এসি মেশিনের ব্যবহৃত তামার তার ও কম্পিউটারের তার চুরির ঘটনায় একটি চোরচক্রের ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে কুঞ্জবন আবাসিক এলাকার কাছ থেকে তাঁদের আটক করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া কম্পিউটারের কিছু সরঞ্জামও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ধৃতদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগেও চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা এবং শহরে সক্রিয় চোরচক্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজধানীর কুঞ্জবন এলাকার ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন, রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড রিসেটেলমেন্ট অথরিটির কার্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটে। দফতর থেকে এসি মেশিনে ব্যবহৃত তামার তার এবং কম্পিউটারের তার চুরি হয়ে যায়। সরকারি কার্যালয় থেকে এ ধরনের সরঞ্জাম চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট দফতরের পক্ষ থেকে এনসিসি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ হাতে পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ।

নিউ ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স থানার ওসি পরিতোষ দাস জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন এসআই বৃহন্নলা জমাতিয়া এবং এসআই বাবুল দাস। তাঁদের নেতৃত্বে পুলিশ বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়। তদন্তের এক পর্যায়ে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর কুঞ্জবন আবাসিক এলাকার কাছ থেকে মোট ৯ জনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে চুরির ঘটনায় তাঁদের জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে আসে। ধৃতদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া কম্পিউটারের কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ধৃতদের বাড়ি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে। অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে তারা একত্রিত হয়ে রাজধানী শহরে চুরির কাজ করত। ধৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বেও চুরিসংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফলে এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, কিংবা রাজধানীর অন্যান্য চুরির ঘটনার সঙ্গেও তাদের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার অবকাশ রয়েছে।

ওসি পরিতোষ দাস আরও জানান, বুধবার ধৃতদের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পেশ করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরির ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি চুরি যাওয়া বাকি সামগ্রী উদ্ধার এবং এই চক্রের কার্যকলাপ সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করবে পুলিশ।

উল্লেখ্য, এর আগেও এনসিসি থানার পুলিশ চুরির ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেয়েছিল। সিবিআই কার্যালয়ে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একসঙ্গে আটজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এবার পৃথক একটি চুরির মামলায় আরও ৯ জনকে গ্রেফতারের ঘটনায় রাজধানীতে সক্রিয় চোরচক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান নতুন মাত্রা পেল।

একদিকে সরকারি কার্যালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরি, অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকার অভিযুক্তদের একত্রিত হয়ে শহরে চুরির কাজ করার অভিযোগ—সব মিলিয়ে বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ধৃতদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং চুরির ঘটনায় প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *