iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

সেকেরকোটে ৩০ একরে অত্যাধুনিক ক্রিকেট অ্যাকাডেমি, দ্রুত শেষের পথে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম : মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২০ সেপ্টেম্বর  : ত্রিপুরায় ক্রিকেটের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সেকেরকোটে অত্যাধুনিক ক্রিকেট অ্যাকাডেমি নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই ৩০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। শুধু ত্রিপুরার ক্রিকেটাররাই নয়, আগামী দিনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যের খেলোয়াড়রাও এই অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বহু প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজও প্রায় শেষের পথে। খুব শীঘ্রই সেখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হবে। রবিবার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে ত্রিপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (টিসিএ) আয়োজিত বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬-এ প্রধান অতিথির ভাষণে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অন্যান্য খেলাধুলার পাশাপাশি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিভাবকরাও তাঁদের সন্তানদের ক্রিকেটের প্রতি উৎসাহিত করছেন। টিসিএ এবং বিসিসিআই-এর যৌথ প্রচেষ্টায় ত্রিপুরার ক্রিকেটাররা জাতীয় স্তরে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন। রাজ্যের ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়নে টিসিএ-কে সরকার প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

ক্রিকেট পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সেকেরকোটে প্রস্তাবিত ক্রিকেট অ্যাকাডেমি ভবিষ্যতে শুধু ত্রিপুরার নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এই অ্যাকাডেমির মাধ্যমে প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হবে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ নিয়েও আশা ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্টেডিয়ামের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়েছেন। নির্মাণকাজ শেষ হলে খুব শীঘ্রই সেখানে বড় মাপের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হবে। এর ফলে ত্রিপুরার ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও পূরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শুধু আগরতলা-কেন্দ্রিক না থেকে গ্রামীণ এলাকাতেও ক্রিকেটের পরিকাঠামো গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। কৈলাসহর, বিলোনিয়া এবং জিরানিয়ার মতো জায়গাতেও উন্নত প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান ক্রিকেটারদেরও নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।

রাজ্যের ক্রিকেটারদের সাম্প্রতিক সাফল্যের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। ত্রিপুরার প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০টি রঞ্জি ট্রফি ম্যাচ খেলার অনন্য নজির গড়ায় মণি শংকর মুড়াসিংকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানান তিনি। পাশাপাশি ক্রিকেটার শ্রীদাম পালের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। অতিথি খেলোয়াড় হনুমা বিহারী ও বিজয় শঙ্করের অবদানের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বিসিসিআই আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১৫ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ প্রতিযোগিতায় ত্রিপুরার মহিলা ক্রিকেট দলের সাফল্যকেও রাজ্যের জন্য গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যের মহিলা ক্রিকেটাররা জাতীয় পর্যায়ে ভালো ফল করে ত্রিপুরার নাম উজ্জ্বল করছেন। এই সাফল্য আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক তরুণীকে ক্রিকেটের প্রতি আকৃষ্ট করবে।

যুবসমাজকে নেশার কবল থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, সুস্থ দেহে সুস্থ মন বাস করে। খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ এবং দলগত মানসিকতা গড়ে তোলে। তাই যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য আরও বেশি করে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তরুণ ক্রিকেটারদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সুনীল গাভাস্কার, শচীন টেন্ডুলকার, মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং বিরাট কোহলির মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের জীবন ও সাফল্য থেকে অনুপ্রেরণা নিতে হবে। কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি খেলোয়াড়দের আহ্বান জানান। ক্রিকেট ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে একসূত্রে বাঁধে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, গ্রামীণ এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে সামনে তুলে আনতে ক্রীড়া দফতর ‘ট্যালেন্ট সার্চ স্কিম’ চালু করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহকুমা, জেলা এবং রাজ্যস্তরে নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে গ্রামীণ এলাকার খেলোয়াড়দের সাফল্য এই উদ্যোগের সুফল প্রমাণ করছে বলে তিনি জানান।

খেলোয়াড় বাছাই, উন্নত কোচিং এবং মহকুমা স্তরে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের উপরও গুরুত্ব দেন ক্রীড়ামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাগুলিকে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা দিতে পারলে আগামী দিনে ত্রিপুরা থেকে আরও বেশি সংখ্যক ক্রিকেটার জাতীয় স্তরে উঠে আসতে পারবেন।

এদিনের অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ বর্ষের ওয়ানডে টুর্নামেন্টের প্লেট গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ত্রিপুরার অনূর্ধ্ব-১৫ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা দল ও দলের সাপোর্ট স্টাফদের সংবর্ধনা জানানো হয়। দুই দলের হাতে ১০ লক্ষ টাকা করে পুরস্কারের চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ২০২৬-২৭ বর্ষের দলীপ ট্রফিতে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য ত্রিপুরার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার অভিজিৎ সরকারকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এছাড়াও টিসিএ পরিচালিত বিভিন্ন ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় সফল দল, ক্রিকেটার এবং প্রশিক্ষকদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে কৃতী ক্রিকেটারদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা জানান উপস্থিত অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিসিএ-র সম্পাদক সুব্রত দে। উপস্থিত ছিলেন টিসিএ-র ভাইস প্রেসিডেন্ট উপানন্দ দেববর্মা, যুগ্ম সম্পাদক জয়ন্ত দে-সহ সংগঠনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সম্পাদকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তপন লোধ।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *