আগরতলা, ২০ সেপ্টেম্বর : রাজ্যের ষাট ঊর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র বা ‘সিনিয়র সিটিজেন কার্ড’ চালুর দাবি জানাল প্রদেশ কংগ্রেস। এই দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এই ধরনের বিশেষ পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা থাকলেও ত্রিপুরায় এখনও তা চালু হয়নি। অবিলম্বে এই ব্যবস্থা চালু করা না হলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, ষাট বছর বা তার বেশি বয়সি নাগরিকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচয়পত্র থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবীণ নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের বয়স ও পরিচয় সহজেই প্রমাণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য প্রযোজ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেও এই পরিচয়পত্র কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
আশীষ কুমার সাহার বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য নানা ধরনের বিশেষ সুবিধা ও ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যাংকিং পরিষেবায় প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ সুদের হার, আয়করের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছাড় এবং বিভিন্ন পরিষেবায় অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন তিনি। রেল ও বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রেও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন সময়ে আসন সংরক্ষণ, ভাড়া ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা থাকার কথা তুলে ধরেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।
তাঁর অভিযোগ, ত্রিপুরায় প্রবীণ নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট একটি ‘সিনিয়র সিটিজেন কার্ড’ চালু না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের পরিচয় ও বয়স সংক্রান্ত নথি নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হয়। ফলে ষাট ঊর্ধ্ব নাগরিকদের জন্য একটি অভিন্ন ও গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র চালু করা প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, রাজ্যের যে সমস্ত নাগরিক এই কার্ডের জন্য আবেদন করবেন, তাঁদের আবেদন দ্রুত যাচাই করে অবিলম্বে পরিচয়পত্র প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থ ও তাঁদের বিভিন্ন পরিষেবা প্রাপ্তির বিষয়টি বিবেচনা করেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিন আশীষ কুমার সাহা আরও বলেন, ভারত সরকারের প্রচলিত নিয়ম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যেই প্রবীণ নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যার অনেকটাই সহজ সমাধান করা সম্ভব। এর জন্য নতুন করে জটিল কোনও ব্যবস্থা তৈরির পরিবর্তে বিদ্যমান সরকারি পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য একটি কার্যকর পরিচয়পত্র ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।
তিনি জানান, প্রবীণ নাগরিকরা যাতে সরকারি ও বেসরকারি পরিষেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাই এই দাবির মূল উদ্দেশ্য। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি স্পষ্ট করে দেন, এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে কংগ্রেস প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থে সরকারকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

