তেলিয়ামুড়া, ১৯ সেপ্টেম্বর : দুর্ঘটনাগ্রস্তদের উদ্ধার করতে গিয়ে মারধর, হেনস্তা এবং সোনার চেন ও নগদ অর্থ ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে জনৈক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিশ্বকর্মা পূজার রাতেই খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া থানাধীন দক্ষিণ পুলিনপুর বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের তীর একদল যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর শনিবার তেলিয়ামুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন চেবরি এলাকার বাসিন্দা যতন রুদ্রপাল।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, যতন রুদ্রপাল তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির চালককে সঙ্গে নিয়ে তেলিয়ামুড়ায় ব্যক্তিগত কাজ সেরে আগরতলার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। দক্ষিণ পুলিনপুর বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছানোর পর রাস্তার উপর দুর্ঘটনাগ্রস্ত অবস্থায় এক পুরুষ, এক মহিলা ও একটি শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। দুর্ঘটনার পর আহত অবস্থায় পড়ে থাকা তিনজনকে দেখে মানবিকতার খাতিরে গাড়ি থামিয়ে তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন যতন রুদ্রপাল ও তাঁর গাড়িচালক।
অভিযোগ, তাঁরা দুর্ঘটনাগ্রস্তদের উদ্ধারে ব্যস্ত থাকার সময় একটি স্কুটিতে করে কয়েকজন যুবক ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যতন রুদ্রপাল ও তাঁর গাড়িচালককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তবে হামলার অভিযোগ সত্ত্বেও দুর্ঘটনাগ্রস্তদের ফেলে না রেখে শেষ পর্যন্ত তাঁদের নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যান যতন রুদ্রপাল।
অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালেও পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। যতন রুদ্রপালের গাড়িচালক কোনও কাজে হাসপাতালের বাইরে বেরিয়ে গেলে সেই সুযোগে একাধিক যুবক তাঁকে হাসপাতালের ভেতর থেকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসে বলে অভিযোগ। এরপর তাঁর উপর ফের মারধর করা হয়। একইসঙ্গে গলায় থাকা সোনার চেন এবং নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনার আরও গুরুতর দিক হিসেবে অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি গার্ডদের সামনেই নাকি হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ফলে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল চত্বরে একজনকে কীভাবে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে মারধর এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠল, নিরাপত্তাকর্মীরা সেই সময় কী ভূমিকা পালন করেছিলেন—তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।
গোটা ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যতন রুদ্রপাল ও তাঁর গাড়িচালক। কোনওক্রমে তাঁরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে ঘটনার বিষয়ে শনিবার তেলিয়ামুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে যতন রুদ্রপাল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
একদিকে দুর্ঘটনায় আহত তিনজনকে বিপদের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে তাঁদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার মানবিক উদ্যোগ, অন্যদিকে সেই উদ্যোগের পরই হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ—গোটা ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের উপস্থিতিতে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে।

