iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

ভূমির অধিকার নিয়ে তিপ্রাসা চুক্তির ব্যাখ্যা বিভ্রান্তিকর : সিপিআইএমএল

আগরতলা, ১৯ সেপ্টেম্বর : ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে ভূমির অধিকার প্রদান কোনও মতেই সম্ভব নয় বলে দাবি করেছে সিপিআইএমএল। তিপ্রাসা চুক্তি ও ভূমির অধিকার নিয়ে সম্প্রতি যে প্রচার চলছে, তাকে চরম বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যায়িত করেছে দলটি। পাশাপাশি আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে পাঁচ দলীয় বামপন্থী ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শনিবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে দলের এই অবস্থান তুলে ধরেন সিপিআইএমএল-এর রাজ্য সম্পাদক পার্থ কর্মকার। তিনি জানান, এবারের ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে সিপিআইএম, সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক এবং আরএসপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে সিপিআইএমএল। পাঁচটি বিষয়কে সামনে রেখে দলটি নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছে বলেও জানান তিনি।

পার্থ কর্মকারের বক্তব্য, সম্প্রতি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী এবং তিপ্রা মথা সুপ্রিমো প্রচার করছেন যে, নির্বাচন শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই তিপ্রাসা চুক্তি ও ভূমির অধিকার বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু এই দাবির মাধ্যমে বিষয়টির সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের ২৪৪(২) ধারার প্রসঙ্গ তুলে সিপিআইএমএল রাজ্য সম্পাদক বলেন, টিটিএডিসি-কে জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বাসস্থান, কৃষিকাজ এবং চারণভূমির জন্য জমি ব্যবহারের অধিকার টিটিএএডিসি-র হাতে থাকলেও ভূমি হস্তান্তরের ক্ষমতা রিটিএএডিসি-র হাতে নেই বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভূমি হস্তান্তরের ক্ষমতা দিতে হলে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল সংশোধন করতে হবে। শুধুমাত্র তিপ্রাসা চুক্তির মাধ্যমে এই অধিকার কার্যকর করা সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিন ভিলেজ কমিটি নির্বাচন প্রসঙ্গেও বাম ঐক্যের অবস্থান তুলে ধরেন পার্থ কর্মকার। তিনি জানান, পাঁচটি ভিলেজে সিপিআইএম-এর প্রতীকে সিপিআইএমএল-এর প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে বামপন্থীরাই প্রকৃত বিরোধী শক্তি হিসেবে মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করছে।

কর্মসংস্থান, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং স্বশাসনের অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংসদ ও বিধানসভার ভিতরে এবং বাইরে বামপন্থীরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে বিজেপি এবং তিপ্রা মথার ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ প্রত্যাখ্যান করে বামপন্থী প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান পার্থ কর্মকার।

সাংবাদিক সম্মেলনে ২০২৪ সালের ৩ মার্চ স্বাক্ষরিত তিপ্রাসা চুক্তির শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, চুক্তিতে কী কী বিষয় রয়েছে এবং সেগুলির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান কী, তা স্পষ্ট করার জন্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা প্রয়োজন।

টিটিএএডিসি এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো ও শিক্ষক সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিপিআইএমএল রাজ্য সম্পাদক। তিনি জানান, টিটিএএডিসি এলাকায় মোট ১,৬৬৩টি উচ্চবুনিয়াদি ও প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩০১টি বিদ্যালয়ে মাত্র একজন করে শিক্ষক রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। অবিলম্বে টিটিএএডিসি এলাকার বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক সংকট দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ পড়ে রয়েছে বলেও দাবি করেন পার্থ কর্মকার। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে প্রায় ৬১ হাজার শূন্যপদ রয়েছে। এই শূন্যপদ পূরণের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে স্পষ্ট নীতি প্রকাশ করতে হবে এবং দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে বলে দাবি জানান তিনি।

সব মিলিয়ে তিপ্রাসা চুক্তি, ভূমির অধিকার, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়কে সামনে রেখে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে বামপন্থী দলগুলির ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের বার্তা দেন সিপিআইএমএল রাজ্য সম্পাদক পার্থ কর্মকার।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *