iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

ইঞ্জিনিয়াররাই ভারতের উন্নয়নের মেরুদণ্ড : মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৫ সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের প্রকৌশলী ও ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। প্রকৌশলীদের দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই বিকশিত ভারত ও বিকশিত ত্রিপুরার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। মঙ্গলবার প্রজ্ঞাভবনে ইঞ্জিনিয়ার্স ডে উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইঞ্জিনিয়ার ও প্রকৌশলীদের দক্ষতা এবং কাজের উপর আস্থা রেখেই ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রকৌশলীদের পাশাপাশি দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিকেও বিশেষ দায়িত্ব নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা, পরিকল্পনা ও উন্নয়নের রূপরেখাকে বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিবিদদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারতরত্ন এম বিশ্বেশ্বরাইয়ার অবদান স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রযুক্তি ও প্রকৌশল ক্ষেত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। বিশ্বেশ্বরাইয়ার কর্মজীবন এবং তাঁর দূরদর্শী চিন্তাভাবনা আজও দেশের ইঞ্জিনিয়ারদের অনুপ্রেরণা জোগায়।

তিনি বলেন, বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজ্য সরকারও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। প্রকৃতিগত কারণেই ত্রিপুরায় শীতকালীন প্রায় চার মাস বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তাই এই সময়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগাতে হবে। বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী অত্যাধুনিক পদ্ধতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রাজ্য ও দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ইঞ্জিনিয়ারদের বিভিন্ন উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে দেশের পরিকাঠামো ক্রমশ উন্নত হচ্ছে। চেনাব রেল সেতুর মতো অত্যাধুনিক নির্মাণকাজের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতের প্রকৌশল দক্ষতা আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত হচ্ছে।

ত্রিপুরার উন্নয়নেও প্রকৌশলীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ারদের সঠিক পরিকল্পনা এবং তার যথাযথ বাস্তবায়নের ফলেই রাজ্যের পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন ও উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। বিধানসভা থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত ই-অফিস ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ভারতমালা প্রকল্পের আওতায় রিং রোড নির্মাণ—এসব ক্ষেত্রেও প্রযুক্তি ও প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রকৌশলীগণ হলেন ভারতের উন্নয়নের মেরুদণ্ড।” তাঁদের দক্ষতা, দায়িত্ববোধ, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ দেশের উন্নয়নের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। তাই আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রকৌশলীদের আরও নতুন চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি মুখ্যসচিব জে কে সিনহা বলেন, প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এম বিশ্বেশ্বরাইয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর আদর্শ ও কর্মধারা অনুসরণ করে বর্তমান প্রজন্মের প্রকৌশলীদের দেশ গঠনে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পূর্ত দফতরের সচিব কিরণ গিত্তে, গ্রামোন্নয়ন দফতরের সচিব অভিষেক সিং এবং আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা ড. সুমন চক্রবর্তী। বক্তারা আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

ইঞ্জিনিয়ার্স ডে উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতী প্রকৌশলী ও অধ্যাপকদের সম্মানিত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বেস্ট ফ্যাকাল্টি হিসেবে পাঁচজন অধ্যাপককে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করেন। পাশাপাশি বেস্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পাঁচজন ইঞ্জিনিয়ারকেও সম্মানিত করা হয়।

এদিন ইঞ্জিনিয়ার চিন্ময় দেবনাথ ও শিবির দেববর্মাকে ‘ইঞ্জিনিয়ার অব দ্য ইয়ার ২০২৬’ সম্মানে ভূষিত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। ভিআইপি রোডে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্সের অফিসের জন্য নির্ধারিত জায়গাটিকে ‘আইইআই ল্যান্ড’ এবং হাউজিং বোর্ড সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডটিকে ‘আইইআই বাসস্ট্যান্ড’ নামে নামকরণের ঘোষণা দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী সহ উপস্থিত অতিথিরা এম বিশ্বেশ্বরাইয়ার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে ইঞ্জিনিয়ার্স ডে উপলক্ষে আয়োজিত রক্তদান শিবির পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি রক্তদাতাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের উৎসাহিত করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পূর্ত দফতরের মুখ্য বাস্তুকার অনুপ কুমার দাস। উপস্থিত ছিলেন পূর্ত দফতরের যুগ্ম সচিব রাজীব পাল সহ অন্যান্য আধিকারিক ও বিশিষ্টজনেরা। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, ত্রিপুরা শাখার চেয়ারম্যান পরমানন্দ সরকার ব্যানার্জি।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *