ধর্মনগর, ১৯ আগস্ট : উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর মহকুমার বাগবাসা এলাকা থেকে তিন নাবালিকাকে কথিতভাবে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আনন্দবাজারের রাজনগর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে তিন নাবালিকাকে নিয়ে যাওয়ার সময় জনৈক যুবককে স্থানীয় বাসিন্দারা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাবালিকা নিরাপত্তা, কথিত পাচারের অভিযোগ এবং অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ বাগবাসা এলাকা থেকে তিন নাবালিকাকে নিয়ে জনৈক যুবক আনন্দবাজারের রাজনগর এলাকায় পৌঁছনোর পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয়রা ওই যুবককে আটক করেন। আটক যুবক হিসেবে সোহেল উদ্দিনের নাম জানা গেছে। তাঁর বাড়ি তিলতৈই বেতাঙ্গী এলাকায় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। পরে তাঁকে এবং তিন নাবালিকাকে আনন্দবাজার নাকা পয়েন্টে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে নাকা পয়েন্টের ইনচার্জ তিন নাবালিকা ও আটক যুবককে ধর্মনগর মহিলা থানায় পাঠান বলে জানা গেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের পক্ষ থেকে নাবালিকা পাচারের অভিযোগে লিখিত মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একইসঙ্গে স্থানীয়দের একাংশ কথিত ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগও উত্থাপন করেন। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
অভিযোগ উঠেছে, ধর্মনগর মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে গড়িমসি করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নাবালিকাদের বাড়ি বাগবাসা এলাকায় হওয়ায় ধর্মনগর মহিলা থানার পক্ষ থেকে অভিযোগ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করা হয় এবং পরবর্তীতে নাবালিকাদের বাগবাসা থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আনন্দবাজার এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, নাবালিকাদের যদি আনন্দবাজারের রাজনগর এলাকা থেকে আটক করা হয়ে থাকে, তাহলে ঘটনাটির প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন থানার এক্তিয়ার প্রযোজ্য—তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। শুধুমাত্র নাবালিকাদের বাড়ি বাগবাসা এলাকায় হওয়ার কারণেই কেন আনন্দবাজারে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ গ্রহণ না করে তাঁদের বাগবাসা থানায় পাঠানো হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে পুরো ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, তিন নাবালিকাকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তাঁদের সঙ্গে থাকা যুবকের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং আদৌ নাবালিকা পাচারের কোনও ঘটনা ঘটেছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। একইসঙ্গে আটক যুবকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের পাশাপাশি নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মহলের দাবি, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য সামনে আনা হোক। পাশাপাশি, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষেত্রে কোন থানার কী ভূমিকা ছিল, সেটিও স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।

