কৈলাসহর, ১৬ আগস্ট: ঊনকোটি জেলার চণ্ডীপুর বিধানসভার গৌরনগর ব্লকের অন্তর্গত গোলধারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার লক্ষ্মীছড়ার বাঁধ পরিদর্শন করলেন সমাজ শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী টিংকু রায়। রবিবার মন্ত্রীর এই পরিদর্শনকে ঘিরে এলাকায় সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যায়। পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ঊনকোটি জেলার জেলাশাসক মেঘা জৈন, গৌরনগর ব্লকের বিডিও ওঙ্কার দেব-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা।
গোলধারপুর এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম লক্ষ্মীছড়ার বাঁধের উপর দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি। দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তা ব্যবহার করে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন কাজে যাতায়াত করেন। তবে বর্তমানে বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজ চলায় রাস্তার পরিস্থিতি খারাপ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মাটি ফেলে বাঁধ উঁচু করার কাজের ফলে যানবাহন চলাচল ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পরই পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে এদিন এলাকায় যান মন্ত্রী টিংকু রায়।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জানান, গোলধারপুর এলাকায় গত বছর থেকেই বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজ শুরু হয়েছে। আগে যে জায়গা দিয়ে রাস্তা ছিল, সেই রাস্তার উপর দিয়েই মাটি ফেলে বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। গতকাল স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁদের সমস্যার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতেই রবিবার এলাকায় এসে পরিস্থিতি পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বাঁধের কাজ ইতিমধ্যেই অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। এখন সামান্য কিছু মাটি ফেলার কাজ বাকি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের আগামী পাঁচ- ছয় দিনের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাটি ফেলার কাজ শেষ হওয়ার পর রাস্তায় ইট বিছিয়ে মেটেলিং এবং পরবর্তীতে কার্পেটিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। দুর্গাপূজার আগেই রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।
এদিকে পরিদর্শনের সময় এলাকার পানীয় জলের সমস্যার বিষয়টিও মন্ত্রীর নজরে আসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় একটি ডিপ টিউবওয়েল থাকা সত্ত্বেও তাঁরা সেখান থেকে নিয়মিত পানীয় জল পাচ্ছেন না। মন্ত্রী জানান, ওই ডিপ টিউবওয়েলটি বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এর মাধ্যমে প্রায় দুই – তিনশো পরিবারকে পানীয় জল সরবরাহ করা সম্ভব। কিন্তু যে জমিতে টিউবওয়েলটি স্থাপন করা হয়েছে, সেই জমির দাতার আপত্তির কারণে স্থানীয়রা বর্তমানে সেখান থেকে জল নিতে পারছেন না।
জানা যায়, জমির দাতার দাবি অনুযায়ী তাঁকে সরকারি চাকরি দিতে হবে। তবে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, সরকারি চাকরি নির্দিষ্ট নিয়ম ও বিধি মেনেই দেওয়া হয়। কোনও ব্যক্তির দাবির ভিত্তিতে সরাসরি সরকারি চাকরি দেওয়ার সুযোগ নেই। এই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং মামলায় পরাজিত হওয়ার পর পুনরায় মামলা করেছেন বলেও জানান মন্ত্রী।
আইনি জটিলতার কারণে যাতে সাধারণ মানুষ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন পাইপলাইন বসানোর মাধ্যমে এলাকায় দ্রুত পানীয় জল সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিকল্প ব্যবস্থায় পানীয় জল পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
প্রশাসনের এই উদ্যোগে একদিকে যেমন লক্ষ্মীছড়ার বাঁধের রাস্তার দুর্ভোগ কমার আশায় স্থানীয়রা আশ্বস্ত হয়েছেন, তেমনই বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জলের সমস্যারও দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

