iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

৮ কিলোওয়াট লোডে ফিক্সড চার্জ ৩.৪৮ লক্ষ! কুমারঘাটে ‘ভুতুড়ে’ বিল, ভুল স্বীকার বিদ্যুৎ নিগমের

কুমারঘাট, ১৬ আগস্ট : বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল ত্রিপুরায়। মাত্র ৮ কিলোওয়াট নির্ধারিত লোডের একটি পেট্রোল পাম্পে এক মাসের বিদ্যুৎ বিলের ফিক্সড চার্জ দেখানো হলো ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা! পরে বিষয়টি নজরে আসতেই সংশোধন করে সেই ফিক্সড চার্জ নামিয়ে আনা হয় ১ হাজার ৬০০ টাকায়। ঘটনায় ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের বিলিং ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনাটি ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটের শেফালী পেট্রোলিয়াম এজেন্সি-কে ঘিরে। পাম্পটির নির্ধারিত বৈদ্যুতিক লোড মাত্র ৮ কিলোওয়াট। পাম্প ম্যানেজার তাপস দে-র বক্তব্য অনুযায়ী, স্মার্ট মিটার বসানোর আগে ৮ কিলোওয়াট লোডের জন্য তাঁদের মাসিক ফিক্সড চার্জ ছিল প্রায় ৫৬০ টাকা। স্মার্ট মিটার বসানোর পর সেই চার্জ বেড়ে হয় ১ হাজার ৬০০ টাকা।

কিন্তু সম্প্রতি ওই একই ৮ কিলোওয়াট লোডের জন্য বিদ্যুৎ বিল হাতে আসতেই চোখ কপালে ওঠে পাম্প কর্তৃপক্ষের। বিলের ফিক্সড চার্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয় ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বিলের পরিমাণও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

পাম্প ম্যানেজারের দাবি, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, নিগমের রেকর্ডে পাম্পটির নির্ধারিত ৮ কিলোওয়াট লোডের পরিবর্তে ভুলভাবে ১,৭৪০ কিলোওয়াট লোড নথিভুক্ত হয়ে গিয়েছিল। আর সেই ভুল তথ্যের ভিত্তিতেই অস্বাভাবিক হারে ফিক্সড চার্জ নির্ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ।

বিষয়টি সামনে আসার পর তাপস দে সামাজিক মাধ্যমে সরব হন। ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর নড়েচড়ে বসে বিদ্যুৎ নিগম। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই সংশোধিত বিলের মেসেজ পাম্প কর্তৃপক্ষের মোবাইলে পৌঁছায়। সংশোধিত হিসাবে ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকার পরিবর্তে ফিক্সড চার্জ নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৬০০ টাকা।

পাম্প ম্যানেজার তাপস দে বলেন, নিগমের ভুলের কারণেই তাঁদের হাতে এই অস্বাভাবিক বিল এসেছে। তাঁর আশঙ্কা, একই ধরনের ভুল যদি কোনও সাধারণ গ্রাহকের কয়েকশো বা কয়েক হাজার টাকা অতিরিক্ত বিলের ক্ষেত্রে ঘটে, তাহলে অনেকেই তা বুঝতে নাও পারেন। ফলে ভুল বিল পরিশোধ করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়।

ঘটনাটি নিয়ে কুমারঘাট বিদ্যুৎ নিগমের সিনিয়র ম্যানেজার অনুপ কুমার বোসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটার রিডারের ভুলের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, ইদানীং এ ধরনের কিছু ভুলের ঘটনা ঘটছে। তবে বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট বিল সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ নিগমের আধিকারিকের এই বক্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—একটি ৮ কিলোওয়াটের সংযোগ কীভাবে নিগমের নথিতে ১,৭৪০ কিলোওয়াট হয়ে গেল? বিল তৈরি হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের লোড, মিটার রিডিং এবং ফিক্সড চার্জ যাচাইয়ের কোনও কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে স্মার্ট মিটার চালুর পর বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অভিযোগ সামনে এসেছে। তার মধ্যেই কুমারঘাটের এই ঘটনা বিলিং ব্যবস্থার নির্ভুলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

গ্রাহকদের বক্তব্য, বিল হাতে পাওয়ার পর ভুল ধরার দায় শুধুমাত্র গ্রাহকের উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। বিদ্যুৎ নিগমের পক্ষ থেকেও বিল পাঠানোর আগে গ্রাহকের অনুমোদিত লোড, ব্যবহৃত ইউনিট, মিটার রিডিং এবং ফিক্সড চার্জ স্বয়ংক্রিয় ও ম্যানুয়ালভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে অস্বাভাবিক মাত্রার বিল তৈরি হলে তা গ্রাহকের কাছে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসা উচিত।

কুমারঘাটের শেফালী পেট্রোলিয়াম এজেন্সির ঘটনা আপাতত সংশোধন হলেও, এই ঘটনাই সামনে এনে দিয়েছে আরও বড় প্রশ্ন—একই ধরনের ভুল আরও কত গ্রাহকের বিলে হচ্ছে এবং কতজন গ্রাহক তা বুঝতে পারছেন?

তাই শুধু একটি বিল সংশোধন করেই বিষয়টি শেষ না করে, বিদ্যুৎ নিগমের সম্পূর্ণ বিলিং প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে যাতে কোনও গ্রাহকের কাছে অস্বাভাবিক বিল না যায়, সেজন্য বিল তৈরির আগে কঠোর যাচাই ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *