আগরতলা, ১২ জুলাই : ছাত্র-যুব সমাজের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং তাদের সমস্যা ও দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা গড়ে তুলতে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচি ‘ছাত্র কে গুঞ্জ’-এর সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেস। এই কর্মসূচিকে সফল করে তোলা এবং সংগঠনের আগামী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে রবিবার আগরতলায় কংগ্রেস ভবনে অনুষ্ঠিত হয় প্রদেশ যুব কংগ্রেসের জুলাই মাসের কার্যকরী কমিটির বৈঠক।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি নীল কমল সাহা জানান, সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেস কমিটির সভাপতি এবং ত্রিপুরার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের নির্দেশ অনুসারে এই কার্যকরী কমিটির বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ কর্মসূচি এবং ছাত্র-যুবকদের মধ্যে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তিনি জানান, এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ যুব কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি, বিভিন্ন জেলা ও ব্লক যুব কংগ্রেস কমিটির সভাপতি এবং অন্যান্য পদাধিকারীরা। বৈঠকে জেলা ও ব্লক কমিটিগুলির কাছ থেকে প্রাপ্ত সাংগঠনিক রিপোর্ট পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি প্রত্যেক জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল আগামী ১৭ জুলাই উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনে রাহুল গান্ধীর উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র ও যুবকদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি ‘ছাত্র কে গুঞ্জ’-কে সফল করে তোলা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্র-যুবকদের মতামত, সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার বিষয়গুলি তুলে ধরা হবে বলে জানানো হয়।
এই কর্মসূচিকে রাজ্যের ছাত্র-যুবকদের কাছে পৌঁছে দিতে ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেস বিভিন্ন জেলা, ব্লক, কলেজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নিয়েছে। কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্র-যুবকদের মধ্যে গণতান্ত্রিক আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি এবং তাঁদের সমস্যাগুলিকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
এ প্রসঙ্গে নীল কমল সাহা বলেন, ছাত্র ও যুবসমাজের নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে খুব শীঘ্রই রাজ্যে আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করবে যুব কংগ্রেস। তবে আন্দোলনের কৌশলগত কারণেই এই মুহূর্তে সেই কর্মসূচির বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, আগাম ঘোষণা করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মসূচি বানচালের চেষ্টা হতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ে আন্দোলনের রূপরেখা এবং দাবিসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।
বৈঠকে প্রদেশ যুব কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন জেলার জেলা সভাপতিরা বক্তব্য রাখেন এবং সংগঠনকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরেন। আগামী দিনে রাজ্যের ছাত্র-যুবকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি নিয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের বার্তাও দেওয়া হয় এই বৈঠক থেকে।

