আগরতলা, ১৩ জুন : দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর আবারও মানুষের মাঝে দেখা গেল ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য রাজনীতির অন্যতম প্রবীণ ব্যক্তিত্ব সমীর রঞ্জন বর্মনকে। শনিবার ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে ভোটদান করতে তিনি সশরীরে আগরতলা আদালত চত্বরে উপস্থিত হন। তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে আইনজীবী মহলসহ আদালত চত্বরে উপস্থিত বহু মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
রাজনীতির নানা মতাদর্শ ও বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বহু আইনজীবী ও শুভানুধ্যায়ী তাঁকে ঘিরে ধরেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। দীর্ঘদিন পর তাঁকে জনসমক্ষে দেখতে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আদালত চত্বরে তাঁর আগমন একপ্রকার স্মৃতিচারণার পরিবেশও তৈরি করে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় ইন্ডি জোট সমর্থিত প্রার্থী আশীষ কুমার সাহার নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার পর এই প্রথম বৃহত্তর জনপরিসরে দেখা গেল সমীর রঞ্জন বর্মনকে। বয়সজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছেন।
শনিবার বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল ভোটার ও প্রার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, “যারা নির্বাচিত হবেন, তাঁরা যেন সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। আদালত চত্বরে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সুস্থ পরিবেশ বজায় থাকুক—এটাই আমার প্রত্যাশা।”
নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে নিজের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণও তুলে ধরেন তিনি। সমীর রঞ্জন বর্মনের মতে, আদালত চত্বরে বিরোধী শিবিরের সমর্থকদের মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে, তাতে বিজেপি-বিরোধী প্যানেলের জয়ের সম্ভাবনা তিনি অনুভব করছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যে ভোটারদের হাতেই রয়েছে, তাও উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমানে ৮৬ বছরে পদার্পণ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের নির্বাচনে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে প্রবীণ ভোটার। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ভোট দিতে আদালতে উপস্থিত হওয়াকে অনেকেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি তাঁর অটুট আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
ত্রিপুরার রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এই বর্ষীয়ান নেতার উপস্থিতি শুধু বার নির্বাচনের তাৎপর্যই বাড়ায়নি, বরং আদালত চত্বরে উপস্থিত বহু মানুষের কাছে দিনটিকে বিশেষ স্মরণীয় করে তুলেছে।

