iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

সংবিধান হত্যা দিবসে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহার

আগরতলা, ২৫ জুন : দেশের ইতিহাসে জরুরি অবস্থার অধ্যায়কে গণতন্ত্রের জন্য এক কালো অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তাঁর বক্তব্য, যে দল জরুরি অবস্থার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছিল, সেই কংগ্রেসের মুখে গণতন্ত্র রক্ষার কথা মানায় না।

বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সরকারের আরোপিত জরুরি অবস্থার ৫১ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিজেপি-র উদ্যোগে আগরতলায় নজরুল কলাক্ষেত্রে আয়োজিত ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, দলের অন্যান্য নেতা-কর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জরুরি অবস্থার সময়কার বিভিন্ন ঘটনাবলি ও তথ্যচিত্র নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীসহ উপস্থিত অতিথিরা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং সেই সময়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ পর্যালোচনা করেন। এছাড়াও ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে জরুরি অবস্থার সময় সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক বিরোধীদের গ্রেফতার এবং নাগরিক স্বাধীনতার সংকোচনের নানা দিক তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ থেকে ৫১ বছর আগে দেশের ইতিহাসে এক দুঃখজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। যারা সেই সময়ের পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছেন, তাঁরাই জানেন কতটা ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সাধারণ মানুষকে দিন কাটাতে হয়েছিল। গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকারগুলো কার্যত স্থগিত হয়ে গিয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে কংগ্রেস বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দেশে গণতন্ত্র নেই বলে অভিযোগ তোলে। কিন্তু তাঁরা নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়—জরুরি অবস্থার কথা কখনও আলোচনা করতে চায় না। যে দল গণতন্ত্রকে ধূলিসাৎ করেছে, তাঁদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না।”

দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জরুরি অবস্থার ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করতে হবে। তিনি বলেন, “কার্যকর্তাদের এই সময়ের ইতিহাস বিস্তারিতভাবে জানতে হবে এবং মানুষের কাছে সেই সত্য তুলে ধরতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”

প্রদেশ বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেবরায়ও তাঁর বক্তব্যে জরুরি অবস্থার সময়কার নানা ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার চেষ্টা, বিরোধী নেতাদের কারাবন্দি করা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করার মতো ঘটনাগুলি দেশের ইতিহাসে এক সতর্কবার্তা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। তিনি নতুন প্রজন্মকে সেই ইতিহাস জানার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজেপি নেতারা জরুরি অবস্থার ঘটনাবলিকে স্মরণ করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *