আগরতলা, ২৩ জুন : প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার বার্তা পেলেন ত্রিপুরার বিজেপি মন্ত্রিরা। মঙ্গলবার আগরতলায় রাজ্য অতিথিশালায় অনুষ্ঠিত দলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সংগঠনকে শক্তিশালী করা, তৃণমূল স্তরে দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং মন্ত্রিদের সাংগঠনিক জবাবদিহি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে শুধুমাত্র প্রশাসন পরিচালনা করলেই চলবে না, প্রত্যেক মন্ত্রীকে নিজ নিজ এলাকায় সাংগঠনিক কার্যকলাপেও নিয়মিত সময় দিতে হবে। মণ্ডল ও জেলা কমিটির বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, সে বিষয়েও মন্ত্রিদের নজরদারি রাখতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও জনমুখী কর্মসূচি নিয়ে দলীয় স্তরে আলোচনা ও সমন্বয় বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, বিজেপির প্রদেশ সভাপতি ত&তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা তথা সাংসদ ডাঃ সম্বিত পাত্র, বিজেপি-র রাজ্য প্রভারী ডাঃ রাজদীপ রায়সহ রাজ্য মন্ত্রিসভার বিজেপি দলের সকল মন্ত্রী।
বিশেষ সূত্রের দাবি, বৈঠকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দলীয় কাঠামোকে আরও কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রিদের উদ্দেশে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলতে হবে। কোনও ক্ষেত্রে একক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে দলীয় মতামত ও সাংগঠনিক কাঠামোকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
যদিও বৈঠক শেষে বিস্তারিত আলোচনা সম্পর্কে প্রকাশ্যে খুব বেশি কিছু বলতে চাননি প্রদেশ বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেবরায়। তিনি জানান, দলীয় সাংগঠনিক বিষয় নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, এখন থেকে প্রতি মাসে দলের মন্ত্রিদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকের মাধ্যমে সরকার ও সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করা হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি-র নতুন প্রদেশ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সংগঠনকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছেন অভিষেক দেবরায়। দলীয় সূত্রের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিকে সামনে রেখে তৃণমূল স্তর থেকে রাজ্য স্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও মজবুত করার লক্ষ্য নিয়েই এই ধারাবাহিক উদ্যোগ।
এদিনের বৈঠককে সেই বৃহত্তর সাংগঠনিক কৌশলেরই অংশ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, প্রশাসন ও সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দলীয় কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই ছিল বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। ফলে আগামী দিনে বিজেপি মন্ত্রিদের প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা যেতে পারে।

