আগরতলা, ৩০ এপ্রিল : অধিকার, সম্মান আর ন্যায্য প্রাপ্যের দাবিতে বৃহস্পতিবার যেন উত্তাল হয়ে উঠল আগরতলার রাজপথ। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর অনিশ্চয়তার যন্ত্রণা বুকে নিয়ে এদিন শিক্ষা ভবন অভিমুখে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে প্রতিবাদের ঝড় তুললেন মিড-ডে-মিল কুক কাম হেল্পাররা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীর রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে একে একে জড়ো হতে থাকেন শতাধিক কর্মী। কারও চোখে ক্ষোভ, কারও গলায় অভিমান, আবার কারও কণ্ঠে নীরব আর্তি—“আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দাও।” সেই আবেগঘন পরিবেশ থেকেই শুরু হয় সুবিশাল মিছিল। ব্যানার, প্ল্যাকার্ড আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের রাস্তাঘাট। তাঁদের পদধ্বনিতে যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা অবহেলা আর অবমূল্যায়নের ইতিহাস।
মিছিলটি শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে। সেখানেই সংগঠনের এক প্রতিনিধি দল শিক্ষা দফতরের অধিকর্তার হাতে তাঁদের ৯ দফা দাবির স্মারকলিপি তুলে দেন। দাবি শুধু অর্থের নয়, দাবি সম্মানের, নিরাপত্তার এবং মর্যাদার—এমনটাই জানান সংগঠনের নেতৃত্ব।
তাঁদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—মাসিক বেতন ১২ হাজার টাকায় উন্নীত করা, ১০ মাসের পরিবর্তে ১২ মাসের পূর্ণ পারিশ্রমিক প্রদান, বার্ষিক বোনাস চালু করা এবং নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে বেতন নিশ্চিত করা। পাশাপাশি অনিয়মিত কর্মীদের স্থায়ীকরণ, ছাঁটাই বন্ধ, পেনশন চালু, অবসরকালীন এককালীন ৫ লক্ষ টাকা প্রদান এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) চালুর দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
সংগঠনের জনৈকা নেত্রী আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, “আমরা দিনের পর দিন অল্প টাকায় পরিশ্রম করে চলেছি, শিশুদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছি। অথচ আমাদের নিজের ভবিষ্যৎ আজও অন্ধকারে ঢাকা। এই অবিচার আর কতদিন সহ্য করব?”

