আগরতলা, ১০ মে : আগরতলা মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরে একাংশ নেশাগ্রস্ত অটোচালকের দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে বিমানবন্দরের কর্মীরাও। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি আরও বেগতিক হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। যাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অনলাইন বুকিং করা গাড়িতে উঠতে বাধা এবং হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা এখন প্রায় নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিমানবন্দর চত্বর থেকে বের হওয়ার পর নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে কয়েকগুণ বেশি টাকা দাবি করা হয়। যাত্রীরা যদি নির্ধারিত ভাড়া দিতে চান অথবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বুক করা গাড়িতে উঠতে যান, তখন কয়েকজন অটোচালক একত্রিত হয়ে তাদের ঘিরে ধরে গালিগালাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক নিগ্রহের হুমকিও দেওয়া হয়।
শুধু যাত্রীরাই নন, বিমানবন্দরের কর্মীদের একাংশও এই নেশাগ্রস্ত চালকদের হাতে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে। কর্মীদের অভিযোগ, ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার সময় কিংবা দায়িত্ব পালনের ফাঁকে অযথা উত্যক্ত করা, দুর্ব্যবহার এবং অশোভন মন্তব্যের মুখে পড়তে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগেও বিমানবন্দর এলাকায় অটোচালকদের দাদাগিরি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে যাত্রী পরিষেবা উন্নত করতে প্রিপেইড অটো পরিষেবা চালু করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন ঘটেনি বলেই অভিযোগ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ এবং পরিবহন দফতরের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন যাত্রী ও কর্মীরা। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত নেশাগ্রস্ত অটোচালকদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং বিমানবন্দর এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার করা হোক।
পর্যটননির্ভর রাজ্য হিসেবে ত্রিপুরার ভাবমূর্তি রক্ষায় বিমানবন্দর এলাকায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাঁদের মতে, রাজ্যে আগত পর্যটক ও বাইরের অতিথিদের প্রথম অভিজ্ঞতাই যদি হয় ভয় ও হয়রানি, তবে তা রাজ্যের পর্যটন শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে বাধ্য।

