বিশ্রামগঞ্জ, ৯ মে : শনিবার দুপুরে সিপাহীজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত তিনটি দোকান সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বাজার এলাকায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শনিবারও বাজারের দোকানপাট খোলার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ একটি দোকান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। অভিযোগ, ওই দোকানে নিয়মিত পূজার সময় জ্বালানো ধূপকাঠি থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। দোকানের ভেতরে থাকা কাপড়, প্লাস্টিক, কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য সামগ্রীতে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
দমকা হাওয়া এবং প্রচণ্ড তাপের কারণে আগুন দ্রুত পাশের আরও দুটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে লেলিহান শিখায় তিনটি দোকান গ্রাস করে নেয়। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে দোকান ছেড়ে নিরাপদ স্থানে ছুটে যান।
প্রথমদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও বাসিন্দারা বালতি ও জলের পাইপ দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে দমকল বিভাগের তিনটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
তবে ততক্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর ভেতরে থাকা মূল্যবান মালপত্র, আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সম্পূর্ণরূপে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অনেক ব্যবসায়ী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ব্যবসার মূলধন এক মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে গেছে।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বিশ্রামগঞ্জ ফায়ার স্টেশন ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে হলেও দমকল বাহিনী সময়মতো পৌঁছায়নি। তাঁদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব ছিল। কয়েকজন ব্যবসায়ী দমকল বিভাগের গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে বিশ্রামগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভিড় সামাল দেয়। পুলিশ ও দমকল বিভাগ আগুন লাগার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান শুরু করেছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নির্ধারণের কাজও চলছে।
এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দ্রুত সহায়তা না পেলে নতুন করে ব্যবসা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়বে।

